ইসলামাবাদে ইরান-মার্কিন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি সইয়ের লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছেছে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। 'ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের আমন্ত্রণে এই ঐতিহাসিক আলোচনার প্রস্তুতি চললেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ।
গত ৭ এপ্রিল (বুধবার) পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানিয়েছিলেন, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করেন।
যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২৫০ জন নিহত এবং ১,২০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ইসলামাবাদে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার আগে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এই হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো 'শান্তি আলোচনা' সম্ভব নয় বলে তেহরান তাদের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কূটনৈতিক পাড়া বা 'রেড জোন' সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।
Comments