প্রাথমিকে লটারি পদ্ধতি যুক্তিসংগত নয়, ২০২৭ থেকে নতুন সিদ্ধান্ত: শিক্ষামন্ত্রী
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রচলিত লটারি পদ্ধতিকে 'পুরোপুরি যুক্তিসংগত নয়' বলে অভিহিত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। আজ রবিবার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। শিক্ষামন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে প্রাথমিক ভর্তির পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার ঢাকা শহরসহ বড় শহরগুলোতে ভর্তি সংকট ও অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা সামাল দিতে লটারি পদ্ধতি চালু করেছিল। তবে শিক্ষাগত মানদণ্ডের বিচারে এটি দীর্ঘমেয়াদে সঠিক সমাধান নয়। তিনি জানান:
-
ভৌগোলিক পার্থক্য: গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় সেখানে ভর্তি নিয়ে জটিলতা নেই, তবে শহরাঞ্চলে এটি প্রকট।
-
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: আগামী বছরগুলোতে অভিভাবক, শিক্ষাবিদ এবং সংসদ সদস্যদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে নতুন নীতিমালা তৈরি করা হবে।
-
সময়সীমা: বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে জনমত যাচাই করে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন পদ্ধতিতে ভর্তি শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রশ্নকর্তা সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ লটারি পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেন, মেধার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে ভর্তি করায় প্রাথমিক শিক্ষার মান নিম্নমুখী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষা পর্যায়েও মানসম্পন্ন শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি দেশে বিদ্যমান তিন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা (সাধারণ, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসা) নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ার ওপর জোর দেন। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান যে, সরকার দেশের বিচ্ছিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে একটি মূলধারায় আনার পরিকল্পনা করছে।
ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোকে সরকারি কাঠামোর আওতায় এনে জাতীয় শিক্ষানীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কাজ চলছে। ইবতেদায়ী এবং কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে কীভাবে সাধারণ ধারার শিক্ষার সাথে সমন্বিত করা যায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
Comments