বিশ্ব কিডনি দিবস: সচেতনতার অভাবে মৃত্যুঝুঁকিতে লাখো মানুষ
আজ বিশ্ব কিডনি দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। প্রতি বছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার এই দিবসটি পালন করা হয়। কিডনি রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা সেবায় সচেতনতা বাড়াতে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— 'সুস্থ কিডনি সবার তরে, মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণীরে'।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশে কিডনি রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে ভুগছেন। প্রতি বছর প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের কিডনি বিকল হচ্ছে এবং প্রায় ৪০ হাজার রোগী জীবন বাঁচাতে ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে বা বিনা চিকিৎসায় নতুন রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশই মৃত্যুবরণ করছেন। বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর কারণ হিসেবে বর্তমানে এই রোগ অষ্টম স্থানে থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে ২০৪০ সালের মধ্যে এটি পঞ্চম স্থানে উঠে আসবে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, স্থূলতা, নেফ্রাইটিস এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কিডনি বিকলের অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া ধূমপান, অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধের ব্যবহার, বংশগত রোগ এবং মূত্রতন্ত্রের পাথরের কারণেও মানুষ এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। দারিদ্র্য ও অসচেতনতার কারণে অনেক রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করতে পারছেন না।
দিবসটি উপলক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বিএসএমএমইউ) বিভিন্ন সংস্থা আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক প্রচারণার আয়োজন করেছে।
বেসরকারি পর্যায়েও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। রাজধানীর ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল মাসব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছে, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করবেন।
কিডনি রোগ থেকে বাঁচতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন এবং প্রচুর পানি পানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
Comments