নন-লাইফ বীমায় ০% কমিশন বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্ক, দুই মাসেই প্রশ্নের মুখে সিদ্ধান্ত
নন-লাইফ বীমা খাতে কমিশন শূন্যে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ব্যবসায়িক বাস্তবতা, কোম্পানিগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস এবং নীতিনির্ধারকদের ভিন্ন অবস্থানের কারণে খাতটিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
দেশের নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য ০ শতাংশ কমিশন নীতি গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর করা হয়। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। নির্দেশনা অনুযায়ী সব নন-লাইফ বীমা কোম্পানিকে কমিশনবিহীন ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই খাতটির বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ, অভিযোগ এবং প্রতিযোগিতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নন-লাইফ বীমা খাতে কমিশন ভিত্তিক অনৈতিক প্রতিযোগিতা চলছিল। এতে অনেক ক্ষেত্রে নীতিমালা লঙ্ঘন এবং ব্যবসায়িক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার অভিযোগ ছিল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কমিশন শূন্যে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে কোম্পানির মালিকপক্ষের অনেকেই মনে করেন, ব্যবসার বাস্তবতা বিবেচনা না করে হঠাৎ করে কমিশন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, বীমা ব্যবসা মূলত প্রতিযোগিতামূলক হওয়ায় কমিশন কাঠামো পুরোপুরি বন্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়।
অন্যদিকে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর অনেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাবি করেছেন, শূন্য কমিশন নীতি বাস্তবায়ন করা গেলে খাতে অনিয়ম কমবে এবং ব্যবসায়িক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
এদিকে কমিশন নীতি কার্যকর রাখতে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) কয়েকজন এমডি ও সিইওকে নিয়ে একটি সার্ভিল্যান্স টিম গঠন করেছে। এই টিম কমিশনবিহীন নীতি বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করবে এবং অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে।
তবে বিআইএর ভেতরেই এই টিম গঠন নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। সংগঠনের অনেক সদস্যের মতামত না নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বীমা শিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং জিডিপিতে অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বারবার আইন পরিবর্তন বা নতুন বিধিনিষেধ আরোপের বদলে বিদ্যমান আইনের কার্যকর বাস্তবায়নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের মতে, নন-লাইফ বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে কোম্পানিগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, নৈতিক ব্যবসা চর্চা বৃদ্ধি করা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, কমিশন নীতি নিয়ে কোম্পানিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগ ও প্রতিযোগিতা যদি বাড়তে থাকে, তবে তা পুরো বীমা খাতের জন্য অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়াতে পারে।
Comments