উপসাগরীয় সংঘাতে বীমা সুবিধা সংকুচিত হচ্ছে জাহাজ মালিকদের
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর সামুদ্রিক বীমা কোম্পানিগুলো তাদের কভারেজ বাতিল করতে শুরু করেছে, ফলে জাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর ঝুঁকি বেড়ে গেছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধে এখন অনেক প্রতিষ্ঠানই গালফ অঞ্চলে যুদ্ধকালীন ঝুঁকি (war risk) বীমা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। বিশ্ব তেল বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় অঞ্চলটি বিশেষভাবে সংবেদনশীল।
বীমা ব্রোকার মার্শের ফ্রান্সের প্রধান সামুদ্রিক বীমা কর্মকর্তা জিল লেগ্যু এএফপিকে বলেন, 'গতকাল সকাল থেকেই আমরা কয়েকটি বীমা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কভারেজ বাতিলের নোটিশ পাচ্ছি।'
ঝুঁকি যে কতটা বাড়ছে, তার প্রমাণ মিলেছে রোববার। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রণালিটির সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ৫০ কিলোমিটার (৩০ মাইল) চওড়া। তেহরান ইতোমধ্যে এটি বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি সুইস-ইতালীয় প্রতিষ্ঠান এমএসসি রোববার ওই অঞ্চলে থাকা তাদের জাহাজগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তাদের ফরাসি প্রতিদ্বন্দ্বী সিএমএ সিজিএম এবং চীনা শিপিং জায়ান্ট কসকোও একই নির্দেশনা দেয়।
বীমাকারীদের মতে, এই বাতিল প্রক্রিয়া যৌক্তিক। তারা একটি সম্ভাব্য বিপদের বিপরীতে বীমা করেছিল, কিন্তু এখন যেহেতু সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, তাই সেই শর্ত আর কার্যকর থাকছে না। চুক্তির ধরন অনুযায়ী, ৪৮ ঘণ্টা থেকে সাত দিনের নোটিশ পিরিয়ডের পর এই বাতিল আদেশ কার্যকর হয়।
এরপর কী হবে?
বীমাকারীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আবারও কভারেজ দিতে পারে, তবে তার দাম হবে আকাশচুম্বী। বিশ্লেষকদের মতে, শনিবার ইরান আক্রমণের পর এই বীমা খরচ আগের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বাড়তে পারে। মার্কেট ইন্টেলিজেন্স ফার্ম কেপলার-এর তেল বিশেষজ্ঞ আমেনা বকর বলেন, 'বীমা খরচ এত বেশি যে কোনো জাহাজই এখন এই প্রণালি দিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইছে না।'
এমনকি যুদ্ধবিরতি হলেও মাইন বিস্ফোরণ বা অন্যান্য ঝুঁকির কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। বিশেষজ্ঞরা এখন লোহিত সাগর এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরের পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখছেন, কারণ সেখানেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে গালফে আটকে পড়া জাহাজগুলোর চুক্তিও খতিয়ে দেখছেন বীমা বিশেষজ্ঞরা। কিছু চুক্তি সংঘাতের কারণে আটকে গেলে, বিশেষ করে পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে। বীমা কোম্পানিগুলো সংঘাত অন্য সমুদ্রাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সে অনুযায়ী নীতিমালা সমন্বয় করতে পারে।
Comments