ওপার থেকে মাহসা কী দেখে?
সে কি দেখে
তেহরানের আকাশে এখনো ধোঁয়া উঠে
নাকি দেখে চুল ছেড়ে দেওয়া মেয়েদের হাওয়া
ধোঁয়ার চেয়েও হালকা, অথচ আগুনের চেয়েও দহনশীল?
সে কি খুশি
যখন কোনো মেয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
নিজের মুখটাকে ভয় না পেয়ে দেখে
তখন কি তার ঠোঁটের কোণে এক বিন্দু আলো জন্মায়?
নাকি সে আরও বড় কিছু চায়
একটি সকাল, যেখানে আইন মানুষের মতো শ্বাস নেয়
একটি দেশ, যেখানে পর্দা মানে আড়াল নয়
বরং পছন্দের স্বাধীনতা।
হয়তো সে খুশি নয়
কারণ শাসন এখনো বদলায়নি
হয়তো সে থেমেও নেই
কারণ থেমে গেলে রক্তের স্মৃতি শুকিয়ে যায়।
সে কি দেখে
তার মায়ের ঘরে এখনো একটি স্কার্ফ ভাঁজ করে রাখা
যার ভাঁজে ভাঁজে জমে আছে কান্নার লবণ?
সে কি শোনে
রাতে দরজা বন্ধ করার শব্দে
এখনো এক ধরনের আতঙ্ক কেঁপে ওঠে?
হয়তো সে দাঁড়িয়ে থাকে সেই সেপ্টেম্বরের অন্ধকারে
যেখানে তার নিঃশ্বাস থেমে গিয়েছিল
আর বারবার দেখে
কীভাবে মানুষ শ্বাস নিতে শিখছে তার নাম উচ্চারণ করে।
কিন্তু প্রতিটি মিছিলের পর
যখন রাস্তা আবার ফাঁকা হয়ে যায়,
জুতোর ছাপ মুছে যায় বৃষ্টিতে,
আর দেয়ালের স্লোগান ধুয়ে যায় ধুলোয়
তখন কি তার বুকের ভেতরেও
একটা দীর্ঘ, নিঃশব্দ আর্তনাদ জমে ওঠে?
হয়তো সে চায় না ক্ষণিকের আগুন
চায় এমন এক ভোর
যেখানে কোনো মেয়ের চোখে
নিজের ছায়াকেও ভয় পেতে না হয়।
হয়তো সে অপেক্ষায়
যতদিন না প্রতিটি জানালায় আলো জ্বলে
ভয় ছাড়া।
Comments