পাকিস্তানে বন্দুকযুদ্ধে ৫ পুলিশ সদস্য নিহত, ডিএসপি গুরুতর আহত
পাকিস্তানের ডেরা ইসমাইল খান জেলার পানিয়ালা থানার সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে স্টেশন হাউস অফিসার সহ পাঁচ পুলিশ সদস্য শহীদ হয়েছেন। এ ঘটনায় এক ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) ও তার গাড়িচালক গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার পাহাড়পুর তহসিলের ওয়ান্ডা বুধ এলাকায় সন্ত্রাসীদের উপস্থিতিতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গেলে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা পুলিশ দলের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে দীর্ঘক্ষণ বন্দুকযুদ্ধ চলে।
এতে এসএইচও ফাহিম মুমতাজ খান মারওয়াত,কনস্টেবল তৌকীর,কনস্টেবল ইরফান,কনস্টেবল গুলাম সুবহানি ও কনস্টেবল ওয়াজাহাত শহীদ হন।
পাহাড়পুর সার্কেলের ডিএসপি হাফিজ মুহাম্মদ আদনান খান ও তার চালক মুহাম্মদ তারিক গুরুতর আহত হন। তাদের সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শহীদদের মরদেহও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। হামলাকারীদের ধরতে প্রবেশ ও প্রস্থান পথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এ হামলার নিন্দা জানিয়ে একে 'ফিতনা আল-খাওয়ারিজ'-এর কাজ বলে উল্লেখ করেন। তিনি শহীদদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন এবং আহত ডিএসপি আদনানের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
খাইবার পাখতুনখোয়া মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদিও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, প্রাদেশিক সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকবে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পুলিশ সামনের সারিতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তিবিরোধী উপাদানের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
এদিকে বন্নুর ওয়াজির সাবডিভিশনের খোনিয়াখেল পুলিশ পোস্টে মঙ্গলবার গভীর রাতে সন্ত্রাসীদের বড় ধরনের হামলা নস্যাৎ করেছে পুলিশ। বন্দুকযুদ্ধে তিন সন্ত্রাসী নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল সন্ত্রাসী সমন্বিত হামলা চালায় এবং পুলিশ পোস্ট দখলের চেষ্টা করে। তবে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত পাল্টা জবাব দিলে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও কুইক রেসপন্স ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায়।
নিহতদের মধ্যে কমান্ডার উমর আজম ওরফে খিদমতি এবং শাহিদুল্লাহর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তৃতীয় জনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হন এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত।
পুলিশ জানায়,সহযোদ্ধাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে সন্ত্রাসীরা একই রাতে আহমদজাই থানা ও ফতেহখেল পুলিশ পোস্টেও হামলার চেষ্টা চালায়,তবে সেগুলোও প্রতিহত করা হয়।
বন্নু রিজিওনাল পুলিশ অফিসার অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের সাহসিকতার প্রশংসা করে পুরস্কার ও সম্মাননাপত্র দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বন্নু অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নেই এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Comments