ওমানে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠক শুক্রবার, এজেন্ডা নিয়ে এখনো অচলাবস্থা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামীকাল শুক্রবার ওমানে বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে। উভয় দেশের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আলোচনার মূল এজেন্ডা নিয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত স্থান পরিবর্তন করে ওমানের রাজধানী মাসকাট নির্ধারণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আলোচনার স্থান ও পরিধি নিয়ে মতভেদের কারণে বৈঠকটি আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না—তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছিল।
ওয়াশিংটন চায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া এবং দেশটির অভ্যন্তরে জনগণের সঙ্গে আচরণের বিষয়গুলোও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকুক। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান চাইলে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত আছে, তবে পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি এসব বিষয় নিয়েও কথা বলতে হবে। অন্যদিকে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই আলোচনা করতে রাজি। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। আরেক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, পারমাণবিক বিরোধের বাইরে বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার মার্কিন চাপ পুরো আলোচনাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
এদিকে গত বুধবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির 'খুব চিন্তিত হওয়া উচিত'। তিনি আরও জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে, তবে বিস্তারিত কিছু বলেননি। এর আগে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প, যা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তোলে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং একটি বৃহত্তর যুদ্ধ এড়াতে আঞ্চলিক দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই এই বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বৈঠকটি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে মার্কিন পক্ষ থেকে জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অংশ নিতে পারেন।
Comments