এবার ভোটে জালিয়াতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, এবারের জাতীয় নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি বা কারচুপি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেছেন, "এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। গত তিনটি নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি, আর একটিতে অংশ নিলেও ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত ছিল।"
তিনি বলেন, "২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় আমরা সবাই কারাগারে ছিলাম। কিন্তু এবার পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে, সুযোগ এসেছে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের। তাই এবারের ভোটে কোনো ধরনের ছলচাতুরি, জালিয়াতি বা কারচুপির সম্ভাবনা নেই।"
আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী এলাকা আকচা ইউনিয়নের ফারাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, বর্তমানে যে সরকার দায়িত্বে রয়েছেন তারা একটি নিরপেক্ষ সরকার এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আগ্রহী। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলেই আজ জনগণের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এবারের নির্বাচনে জোরজবরদস্তি বা রাতের ভোট আর হবে না, একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পথসভায় মির্জা ফখরুল বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরে বলেন, "ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল ও তেল কিনতে পারবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সেচ ও সার ক্রয় করা যাবে এবং কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে।"
পাশাপাশি মা-বোনদের জন্য এনজিওর সকল কিস্তি এক বছরের জন্য মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। আগামী দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, "ছয় মাসের মধ্যে এলাকার রাস্তাঘাট পাকাকরণ করা হবে, এখানে এলএসডি (লোকাল স্টোরেজ ডিপো) গোডাউন নির্মাণ করা হবে। তরুণদের জন্য কারিগরি শিক্ষা, নারীদের জন্য নার্সিং ট্রেনিং, প্রযুক্তিগত ডেটা এন্ট্রি ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা ঘরে বসেই মাসে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আয় করতে পারে।" কৃষকদের উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আধুনিক হিমাগার ও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, "আগে মানুষের আয় বাড়াতে হবে। আয় বাড়লে বিমানবন্দর চালু করা কঠিন হবে না।"
তবে সবার আগে তিনি উন্নতমানের একটি হাসপাতাল নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যাতে এলাকার মানুষ এখানেই উন্নত চিকিৎসা সেবা পায়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, হিন্দু-মুসলমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে আপনাদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না।"
তিনি আরও বলেন, এটি তার জীবনের শেষ নির্বাচন। তাই হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাইকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। "আপনাদের আমানতের খেয়ানত করা হবে না," বলেন তিনি।
পথসভায় জামায়াত ইসলামী প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, "১৯৭১ সালে জামায়াত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা রুখে দিতে চেয়েছিল। তারা কখনোই দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না।"
তিনি বলেন, "স্লোগানের রাজনীতি শেষ। এবার কাজের রাজনীতি করতে হবে।"
তারেক রহমানের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি আবারও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুরোধ করেন।
Comments