নারীকে ট্রফি মনে করতেন ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনেকেই বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের একজন হিসেবে মনে করেন। কিন্তু তার নাম বহুবার জেফ্রি এপস্টিন–সংক্রান্ত নথিতে এসেছে—এমন দাবি বিভিন্ন সূত্রে দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরছে। কিছু সূত্রে বলা হয়েছে, এপস্টিন-সংক্রান্ত ফাইলগুলোতে ট্রাম্পের নাম হাজারেরও বেশি বার উল্লেখ আছে। যদিও ট্রাম্প বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।
রহস্য আরও ঘনীভূত হয় যখন অতীতে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেন যে, এপস্টিন আত্মহত্যা করেননি। তিনি সরাসরি ইঙ্গিত দেন, বিল ক্লিন্টন এপস্টিনের মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা থাকতে পারে।ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করবেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, ২০২৫ সালে এসে তিনি এই নথি প্রকাশের বিষয়ে নানা অজুহাত দিতে শুরু করেন। তিনি এক পর্যায়ে এসব বিষয়কে "বোরিং টপিক" বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, দেশের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে। এতে জনমনে প্রশ্ন ওঠে—কেন হঠাৎ তার অবস্থান বদলে গেল? অনেকের ধারণা, নথিগুলোতে তার নিজের নামও থাকতে পারে বলেই তিনি অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের কিছু আইনপ্রণেতা পার্লামেন্টে এপস্টিন নথি প্রকাশের দাবি তোলেন। চাপের মুখে ট্রাম্প একটি বিলে সই করতে বাধ্য হন। অবশেষে ১৯ ডিসেম্বর কিছু নথি প্রকাশ করা হয় বলে জানা যায়।
এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প ও এপস্টিনের দীর্ঘদিনের পরিচিতির বিষয়টিও আলোচনায় আসে। তাদের পরিচয় শুরু হয় ১৯৮০-এর দশকে, এবং ১৯৯০-এর দশকে বিভিন্ন পার্টি, সামাজিক অনুষ্ঠান ও ব্যবসায়িক পরিবেশে তাদের একসঙ্গে দেখা যেত বলে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
কিছু সাক্ষ্য ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের দাবি করা নথিতে তাদের কথোপকথন, সামাজিক যোগাযোগ এবং নারীসঙ্গ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের উল্লেখ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এপিস্টিনের গার্লফেন্ড মডেল স্টেনলি উইলিয়ামের ভাষ্যমতে ১৯৯৩ সালে একবার ট্রাম্প টাওয়ারে যান তিনি, যেখানে এপিস্টিনের সামনেই ব্যাড টাচ করেন ট্রাম্প, আর এটি এপিস্টিন বেশ এনজয় করেন কারণ তার কাছে মনে হয় তার কাছে এমন এক নারী আছে যাকে ট্রাম্প ট্রফি মনে করেন ।এছাড়া একটি আলোচিত দাবি হলো—এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানে ট্রাম্প একাধিকবার ভ্রমণ করেছিলেন। যদিও ট্রাম্প এ ধরনের তথ্যের কিছু অংশ অস্বীকার করেছেন।
এই বিতর্কগুলো নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—যদি একজন প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতার নাম এ ধরনের কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়ায়, তবে তা আন্তর্জাতিক রাজনীতি, কূটনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাবের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে?
Comments