রাশিয়ার বদলে ভেনেজুয়েলার তেলের দিকে ঝুঁকছে ভারত: দাবি ট্রাম্পের
ভারত এখন রাশিয়ার বদলে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানির দিকে যাচ্ছে—এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ে গত বছর যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটেই তিনি এই মন্তব্য করেন।
শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ভারত ধীরে ধীরে ভেনেজুয়েলার দিকে ঝুঁকছে। তার ভাষায়, "ভারত এগিয়ে আসছে। তারা এখন ইরান নয়, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে। এ বিষয়ে অন্তত ধারণাগতভাবে আমরা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি।"যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেল আমদানি দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত রেখেছিল ভারত। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার তেলের দাম কমে গেলে নয়াদিল্লি বড় পরিসরে রুশ তেল কিনতে শুরু করে। এ নিয়েই ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে চাপ তৈরি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে ভারতের ওপর চাপ বাড়ান। গত আগস্টে ইউক্রেনে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল ভারতকে রুশ তেল আমদানি থেকে নিরুৎসাহিত করা।তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমালে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হতে পারে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা ইস্যুতেও ট্রাম্প কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। গত মাসে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনার পর তিনি দেশটির তেল বিক্রি ও রাজস্ব নিয়ন্ত্রণে রাখার ইচ্ছার কথা জানান। পরে মার্চে মাদুরো প্রশাসনকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে ভেনেজুয়েলার তেল কিনছে—এমন দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। আগের বছর ভারতকেও একই ধরনের শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।তবে এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভেনেজুয়েলার তেল খাতে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বাণিজ্য সহজ হবে বলে জানানো হয়। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, এতে বিদ্যমান তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতে সহায়তা মিলবে এবং শিগগিরই আরও শিথিলতার ঘোষণা আসতে পারে।বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ওয়াশিংটন–নয়াদিল্লি সম্পর্কের সম্ভাব্য উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত এক বছরে দুই দেশের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য টানাপোড়েন দেখা গেলেও এখন নতুন সমঝোতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।এ ছাড়া ট্রাম্প উল্লেখ করেন, চীনও চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় এসে ভেনেজুয়েলার তেল কিনতে পারে।
Comments