হ্যারি ব্রুকের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কায় সিরিজ ইংল্যান্ডের
আগের ম্যাচে কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ব্যাটিংয়ের পর 'সবচেয়ে খারাপ' উইকেট বলে মন্তব্য করেছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। সেই মাঠেই তিনি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন। ৪০ বলে হাফসেঞ্চুরি করা বিধ্বংসী এই ব্যাটার পরবর্তী ২৬ বলে ৮৬ রান তোলেন। যার সুবাদে ৩৫৭ রানের বড় পুঁজি পায় ইংলিশরা। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার শুরুটা ঝোড়ো হলেও, শেষ পর্যন্ত তাদের ৩০৪ রানে থামতে হয়েছে।
গতকাল (মঙ্গলবার) সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটিতে নেমে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি সফরকারী ইংল্যান্ডের। জোড়া সেঞ্চুরিতে সেই চিত্র পাল্টে দেন হ্যারি ব্রুক (১৩৬) ও জো রুট (১১১)। এ ছাড়া জ্যাকব বেথেলও হাফসেঞ্চুরি (৬৫) করেন। লক্ষ্য তাড়ায় লঙ্কানদের প্রথম ১০ ওভারে ১০৪ রান ওঠে। তবে দ্রুত উইকেট হারানোয় শেষ পর্যন্ত দমটা ধরে রাখতে পারেনি চারিথ আসালাঙ্কার দল। তাদের হয়ে পভন রত্ননায়েক সর্বোচ্চ ১২১ এবং পাথুম নিশাঙ্কা ৫০ রান করেন।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ইংলিশরা ওপেনার বেন ডাকেটকে (৭) দলীয় ১৯ রানেই হারিয়ে বসে। এরপর মেইকশিফট ওপেনার রেহান আহমেদও ২৪ রানের বেশি করতে পারেননি। ৪০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। তৃতীয় উইকেটেই মূলত খেলার চিত্র পাল্টানো শুরু। জ্যাকব বেথেল ও জো রুট মিলে ১২৪ বলে ১২৬ রানের জুটি গড়েন। ৭২ বলে ৮টি চারের সাহায্যে ৬৫ রান করেছেন উইকেটকিপার ব্যাটার বেথেল।
রুট-ব্রুকের জুটি ছিল অবিচ্ছেদ্য। ১১৩ বলে তারা স্কোরবোর্ডে ১৯১ রান যোগ করেন। যার বেশিরভাগ অবদান ব্রুকের। বিশেষ করে রুট যখন সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন, তখন হাফসেঞ্চুরি ছিল ইংলিশ অধিনায়কের। দলের করা শেষ ৬৯ রানের মধ্যে রুটের অবদান স্রেফ ১ রান। শেষ ৩৪ বলে ব্রুক তুলেছেন ৯৮ রান। লঙ্কান বোলারদের জন্য ইনিংসের শেষটা কতটা বিপর্যস্ত কেটেছে সেটাই স্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত দুই ব্যাটারই ছিলেন অপরাজিত। রুট ১০৮ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় ১১১ এবং ব্রুক ৬৬ বলে ১১ চার ও ৯ ছক্কায় ১৩৬ রান করেন। বিপরীতে লঙ্কানদের পক্ষে তিনজন উইকেট নেন একটি করে।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে যৌথভাবে দ্রুততম সেঞ্চুরির (৫৭ বলে) রেকর্ড গড়লেন ব্রুক, সমান সংখ্যক বল মোকাবিলায় এর আগে ম্যাজিক ফিগার পূর্ণ করেছিলেন ইয়ন মরগান। লঙ্কানরা তার শেষের ঝড়ের নিচে তলিয়ে যায় কি না সেই শঙ্কা ছিল। শেষটা ব্যবধান গড়ে দিলেও অবশ্য স্বাগতিকরা শুরুতে ভিন্ন কিছুরই আভাস দেয়। পাওয়ার প্লে'র ১০ ওভারেই ১০৪ রান পেয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। তবে উইকেটের নিয়ন্ত্রণটা ঠিক তাদের হাতে ছিল না।
মাত্র ২৫ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় হাফসেঞ্চুরি করেছেন নিশাঙ্কা। কিন্তু এর পরই তিনি আউট হয়ে যান। কামিল মিশারা (১৭ বলে ২২), কুশল মেন্ডিসরাও (৯ বলে ২০) ঝড়ের ইঙ্গিত দিয়ে ফেরেন দ্রুত সময়ে। লঙ্কানদের রানের গতি সচল থাকলেও, বড় জুটি গড়তে না পারাটাই তাদের জন্য কাল হলো শেষ পর্যন্ত। পভন রত্ননায়েক ও দুনিথ ভেল্লালাগের সপ্তম উইকেট জুটিতেই কেবল ৫০–এর দেখা মিলেছে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন পভন। ২৩ বছর বয়সী এই ডানহাতি ব্যাটার ১১৫ বলে ১২ চার ও এক ছক্কায় ১২১ রান করেছেন।
এ ছাড়া ২২ রানের বেশি করতে পারেননি আর কোনো লঙ্কান ব্যাটারই। ৪৬.৪ ওভারেই ৩০৪ রানে স্বাগতিকদের ইনিংস গুটিয়ে যায়। ইংলিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ২টি করে শিকার ধরেন জেমি ওভারটন, লিয়াম ডসন, উইল জ্যাকস ও আদিল রশিদ। ৫৩ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজের দখল নিলো ইংল্যান্ড। ২০২৩ সালের পর এবারই প্রথম দেশের বাইরে ইংলিশরা প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জিতল।
Comments