বাংলাদেশের বিকল্প হিসেবে বিশ্বকাপে খেলতে পারে স্কটল্যান্ড
নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারত থেকে বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল আইসিসিকে। বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা জানিয়েছে, এত অল্প সময়ে বিকল্প ভেন্যুর ব্যবস্থা করা প্রায় অসম্ভব। বাংলাদেশও তাদের ভারতে না খেলার সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও নড়ছে না। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আইসিসি, এমনটাই শোনা গেছে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অনড় থাকলে তাদের বিকল্প হিসেবে পরবর্তী সেরা র্যাংকিংধারী স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে আইসিসি।
অবশ্য ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আইসিসি এই ব্যাপারে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। স্কটিশ ক্রিকেটের কর্মকর্তারাও আপাতত আইসিসির সঙ্গে এনিয়ে কোনো কথা বলেনি। স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজ থেকে কোনো কথা বলতে চায় না। তারা বিসিবির সংকটের সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি করতে আগ্রহী নয়।
২০০৯ সালে রাজনৈতিক কারণে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে। ওইবারও তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড সুযোগ পেয়েছিল। তবে এবার বিষয়টি কিছুটা জটিল। এখন বিশ্বকাপের দলগুলো অঞ্চলভিত্তিক বাছাইপর্বের মাধ্যমে আসে, তাই আইসিসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত কাউকেই আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিচ্ছে না। তবে সুযোগ আসলে যেন কাজে লাগানো যায়, সেজন্য স্কটিশ ক্রিকেটাররা নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া আগামী মার্চে ওমান ও নামিবিয়ার সঙ্গে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট খেলার কথা স্কটল্যান্ডের। সেই টুর্নামেন্টের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচই ভারতে খেলার কথা বাংলাদেশের। তবে সম্প্রতি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ব্যাপক অবনতি হওয়ায় অনিশ্চিত এই ম্যাচগুলো। নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতের মাটি থেকে নিজেদের ম্যাচ সরিয়ে নিতে আইসিসিকে অনুরোধ জানিয়ে একধিকবার চিঠি দিয়েছে বিসিবি।
মেইল চালাচালি ছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করেছে বিসিবি-আইসিসি। এমনকি এ ব্যাপারে বিসিবির সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশে আসে আসিসির একটি প্রতিনিধি দল। তারপরও সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি তারা।
ইএসপিএন ক্রিকইনফো বলছে আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবে আইসিসি। যদিও বিসিবি বলছে, এমন কোনো ডেডলাইনের কথা বলেনি আইসিসি।
Comments