সুস্থ জীবনযাপনই মাথাব্যথা থেকে মুক্ত থাকার কার্যকর উপায়
অনিয়মিত ঘুম, অতিরিক্ত মানসিক চাপ কিংবা ভুল খাদ্যাভ্যাস- এসব ছোট ছোট অভ্যাসই ঘন ঘন মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। হঠাৎ করে মাথাব্যথা শুরু হলে কাজের মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠে এবং দৈনন্দিন জীবন থমকে যায়। অনেকেই ভাবেন, মাথাব্যথা বুঝি বড় কোনো অসুখের লক্ষণ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সমস্যার মূল কারণ লুকিয়ে থাকে আমাদের নিজের জীবনযাপনের মধ্যেই।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এ ধরনের মাথাব্যথাকে বলা হয় প্রাইমারি হেডেক। প্রাইমারি হেডেক সাধারণত শরীরের ভেতরে কোনো বড় রোগের লক্ষণ নয়। বরং এটি মাথার ভেতরের ব্যথা অনুভবকারী স্নায়ু, রক্তনালি বা পেশির অতিরিক্ত সক্রিয়তার কারণে হয়ে থাকে। কখনো কখনো মস্তিষ্কের রাসায়নিক কার্যক্রম বা ঘাড় ও মাথার পেশির সমস্যাও এর জন্য দায়ী হতে পারে। আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে জিনগত কারণেও এই ধরনের মাথাব্যথার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস মাথাব্যথা হওয়ার ধরন ও সময়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুম, নাক ডাকা বা স্লিপ অ্যাপনিয়া, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ এবং কিছু নির্দিষ্ট খাবার মাঝারি থেকে তীব্র মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
জীবনযাপন জনিত যেসব কারণে প্রাইমারি হেডেক হতে পারে
- অ্যালকোহল গ্রহণ, বিশেষ করে লাল ওয়াইন
- কিছু খাবার, যেমন প্রক্রিয়াজাত মাংস, যেখানে নাইট্রেট থাকে
- ঘুমের সময়সূচিতে পরিবর্তন বা পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া
- ভুল ভঙ্গিতে বসা বা দাঁড়ানো
- সময়মতো খাবার না খাওয়া
- অতিরিক্ত মানসিক চাপ
- শরীরে পানিশূন্যতা
যদি মাথাব্যথার কারণগুলো জানা থাকে, তাহলে সেগুলো এড়িয়ে চলা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি, এমনকি ছুটির দিনেও। নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা এবং সময়মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।
মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান, যোগব্যায়াম ও নিয়মিত ব্যায়াম বেশ কার্যকর। এগুলো অনেক ক্ষেত্রেই মাথাব্যথা কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পানিশূন্যতা থেকেও মাথাব্যথা হতে পারে।
অনেক সময় সাময়িক আরাম পেতে ব্যথানাশক ওষুধ সহজেই হাতের নাগালে পাওয়া যায়। তবে এসব ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান করে না। তাই ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আগে জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার দিকে মনোযোগ দেওয়াই বেশি উপকারী।
মাথাব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এর পেছনে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস ও জীবনযাপনের বড় ভূমিকা রয়েছে। নিয়মিত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক ভঙ্গিতে চলাফেরা - এই বিষয়গুলোতে সচেতন হলে অনেক ক্ষেত্রেই মাথাব্যথা এড়ানো সম্ভব। সুস্থ জীবনযাপনই হতে পারে মাথাব্যথা থেকে মুক্ত থাকার সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায়।
সূত্র : DOC2US
Comments