চাঁদপুরে ভাঙন আতঙ্ক, ৮২৭ কোটির প্রকল্প কি পারবে শহর বাঁচাতে?
চাঁদপুর মেঘনা পাড়ের মানুষের কাছে 'চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ' কেবল একটি অবকাঠামো নয়, এটি টিকে থাকার শেষ সম্বল। স্বাধীনতার পর থেকে দফায় দফায় সংস্কার হলেও ভাঙন থামেনি। বর্তমানে ৮২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চলছে বিশাল এক পুনর্বাসন প্রকল্প। তবে মাঠপর্যায়ে কাজের মন্থর গতি এবং বারবার নদীগর্ভে ভিটেমাটি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ।
প্রকল্প পরিদর্শন ও অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ১৯৭২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশ নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় বড় ধরনের কোনো সংস্কার না হওয়ায় এবং মেঘনার তীব্র স্রোতে বাঁধের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ২০১৯ সাল থেকে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। বিশেষ করে পুরান বাজার ও নতুন বাজার এলাকায় প্রতি বর্ষায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
২০২৪ সালের মে মাসে শুরু হওয়া ৮২৭ কোটি টাকার এই প্রকল্পে ১৯টি প্যাকেজে কাজ চলছে। নতুন বাজার লঞ্চঘাট থেকে পুরানবাজার রণগোয়াল পর্যন্ত ৩৩৬০ মিটার।
২৩ লাখ ব্লক, ১০ লাখ জিওব্যাগ এবং ২৯ হাজার মিটার জিও পাইপ বসানোর কাজ চলমান রয়েছে। বর্তমানে জিওব্যাগ ডাম্পিং শেষে ব্লক ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। নদীপাড়ের বাসিন্দাদের প্রশ্ন, "বর্ষা আসার আগে কাজ শেষ না হলে এই ব্লকের সুফল কি আমরা পাবো?"
ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই তিন থেকে চারবার তাদের ঘরবাড়ি স্থানান্তর করেছেন। সরকার টাকা খরচ করছে ঠিকই, কিন্তু কাজ যদি সময়মতো না হয় তবে আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে যাওয়ার পর বাঁধ দিয়ে কী লাভ?"
শাহীন , মিজান, সুবাসসহ স্থানীয়দের দাবি, কাজের গুণগত মান এবং টেকসই স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে যাতে বারবার তালি দেওয়ার প্রয়োজন না পড়ে।
কাজের ধীরগতির বিষয়ে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহুরুল ইসলাম জানান, বড় এই প্রকল্পটি মনিটরিং করার জন্য ডিপার্টমেন্টের নিজস্ব টাস্কফোর্স কাজ করছে। ফিজিক্যাল ভিজিটের পাশাপাশি ভিডিওর মাধ্যমেও তদারকি চলছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যেই মানসম্মতভাবে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
প্রকল্প ব্যায় ৮২৭ কোটি টাকা সুবিধাভোগী সংখ্যা প্রায় ৫.৫ লাখ মানুষ। প্রধান চ্যালেঞ্জ নদীগর্ভে বারবার তলিয়ে যাওয়া ও কাজের মন্থর গতি বর্তমান অবস্থা পাথর ও ব্লকের ডাম্পিং পর্যায় দেখা যায়।
চাঁদপুরের অস্তিত্ব রক্ষায় এই প্রকল্পের কোনো বিকল্প নেই। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের গতি যদি নদী ভাঙনের গতির চেয়ে কম হয়, তবে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে পারে। মেঘনার রুদ্ররূপ ধারণ করার আগেই দৃশ্যমান অগ্রগতি চান চাঁদপুরবাসী।
Comments