যুক্তরাষ্ট্র কোনো দল বা ব্যক্তিকে সমর্থন করে না: মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কোনো দল বা ব্যক্তিকে সমর্থন করে না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) ট্র্যাসি অ্যান জ্যাকবসন।
তিনি বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অবস্থান কী! বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাজ সমর্থন করি, যারা আগামী বছরের শুরুতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রণয়নে কাজ করছে। আমরা কোনো নির্দিষ্ট ফলাফলকেও সমর্থন করি না। এটি বাংলাদেশের জনগণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়। আমরা আশা করি এদেশের জনগণ সে কাজে সফল হবে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির দপ্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটিই হচ্ছে মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রথম বৈঠক।
বৈঠক এবং আতিথেয়তার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি এখানে আমার কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে এসেছি শোনার জন্য, শেখার জন্য এবং বোঝার জন্য। আমরা আশা করি, সেই নির্বাচন শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং তা একটি সফল গণতান্ত্রিক সরকারের জন্ম দেবে, যা বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটাবে।
মার্কিন দূত বলেন, আমরা, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বা যুক্তরাষ্ট্র সরকার, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করি না। তবে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দেখা করি তাদের কর্মসূচি ও লক্ষ্য বুঝতে। আমরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনীতিবিদকেও সমর্থন করি না, কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য বোঝার জন্য সাক্ষাৎ করি। আমরা কোনো নির্দিষ্ট ফলাফলকেও সমর্থন করি না—এটি বাংলাদেশের জনগণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় এবং আমরা আশা করি আপনারা সে কাজে সফল হবেন।
এর আগে দুপুর সোয়া ২টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকটি হয়। বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা জেমস স্টুয়ার্ট এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আগমন উপলক্ষে নির্বাচন ভবনে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করে ইসি। ইসি সচিব আখতার আহমেদ নিজে নিচ তলায় প্রবেশ পথে দূত ট্র্যাসি অ্যান জ্যাকবসনকে অভ্যর্থনা জানান। তার নেতৃত্বে কর্মকর্তাদের একটি দল মার্কিন প্রতিনিধি দলকে সিইসির দপ্তরে নিয়ে আসেন।
Comments