ব্রিটিশ ও ইইউ স্থাপনায় রাশিয়ার হামলা, অসন্তুষ্ট ট্রাম্প

ইউক্রেনে রাশিয়া আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ব্রিটিশ কূটনৈতিক স্থাপনাসহ বেসামরিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টা ব্যাহত করার পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান টিমুর টাকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, রাজধানীতে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রাত ১১টা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চলছিল।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, ট্রাম্প এ খবর শুনে অসন্তুষ্ট হলেও বিস্মিত হননি, কারণ দুই দেশ বহুদিন ধরে যুদ্ধে লিপ্ত। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর দ্বিতীয় বৃহত্তম আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও জানান, হামলায় একটি তুর্কি প্রতিষ্ঠান ও আজারবাইজান দূতাবাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন বিশেষ দূত কিথ কেলগ এক্স প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, 'লক্ষ্য ছিল না সেনা বা অস্ত্রাগার, বরং আবাসিক ভবন, বেসামরিক ট্রেন, ইইউ ও ব্রিটিশ মিশন কার্যালয় এবং সাধারণ মানুষ।'
এই ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে। যদিও হামলায় কূটনৈতিক মিশনে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ক্যারোলিন লিভিট এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, 'রাশিয়ার হামলাগুলো প্রাণঘাতী হলেও ইউক্রেনও আগস্টে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। মনে হচ্ছে উভয় পক্ষই এখনো যুদ্ধ শেষ করার জন্য প্রস্তুত নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটি শেষ করতে চান, তবে মূল দায়িত্ব দুই দেশের নেতাদের।'
উল্লেখ্য, মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে আলাস্কায় ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প আশা করেছিলেন সেই বৈঠক শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবে। কিন্তু নতুন হামলার পর তার সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
জেলেনস্কি এক্স প্ল্যাটফর্মে বলেন, 'রাশিয়া আলোচনার টেবিলের পরিবর্তে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বেছে নিয়েছে।' তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞারও আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, রাশিয়ার দাবি—তাদের হামলায় সামরিক-শিল্প স্থাপনা ও বিমানঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু ছিল। পাশাপাশি তারা জানিয়েছে, ইউক্রেনও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তবে ক্রেমলিন বলেছে, তারা এখনও শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী।
Comments