আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস আজ
আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের গর্বিত অংশীদার বাংলাদেশ পুলিশ।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন হবে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগরের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের পদযাত্রা সূচিত হয়।
শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ২১ হাজার ৮১৫ জন শান্তিরক্ষী ২৪টি দেশে ২৬টি মিশনে পেশাদারিত্ব ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ব শান্তিরক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের ২৪ জন শান্তিরক্ষী।
বর্তমানে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, সাউথ সুদান ও সেন্ট্রাল আফ্রিকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ১২৮ জন পুরুষ ও ৭১ জন নারীসহ ১৯৯ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের নারী সদস্যরা ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন।
ইতোমধ্যে ১ হাজার ৯২৭ জন নারী পুলিশ শান্তিরক্ষী বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব শেষ করেছেন।
১৯৮৯ সালের পূর্বে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ পুলিশের কাজ করার কোন ধরনের সুযোগ হয়নি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালনের ফলে, বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দেশের পুলিশিং সম্পর্কে জানার সুযোগ ও অনেক দেশের পুলিশের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়েছে।
এ ধরনের বহুমাত্রিকতায় পুলিশ সদস্যরা নিজেদের মধ্যে পরিবর্তনের এক ধরনের তাড়না অনুভব করেন, যার ফলে তাদের মনোজগতে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়।
তারা ঔপনিবেশিক ধ্যান-ধারণা ও পুলিশিং থেকে বেরিয়ে গণতান্ত্রিক ধারায় জনমুখী পুলিশিংয়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ হন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন পুলিশ সদস্যদেরকে মানুষের আরো কাছে যেতে ও তাদের প্রতি আরো দায়বদ্ধ হতে শিখিয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের আজকের জনমুখী পুলিশিংয়ের প্রত্যাশার পেছনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের অনন্য সুযোগ, অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার গুরুত্ব রয়েছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোদীপ্ত ও অনন্য সাধারণ ভূমিকা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।
দেশের অভ্যন্তরে পুলিশি সেবা প্রদানের ব্রত নিয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি, জাতিসংঘের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত থেকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এদিকে, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপনে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সকালে শান্তিরক্ষীদের স্মরণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেঃ জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অবঃ) সকাল বেলা 'শান্তিরক্ষী দৌড়/র্যালি-২০২৫' অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আহত শান্তিরক্ষীদের জন্য সংবর্ধনা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ উপস্থাপনার আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘ চার দশকের শান্তিরক্ষার ইতিহাসে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের ৪৩টি দেশ ও স্থানে, ৬৩টি জাতিসংঘ মিশন সফলতার সাথে সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে ১০টি দেশে আমাদের ৫,৮১৮ জন শান্তিরক্ষী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ও কার্যক্রমে নিয়োজিত আছে যার মধ্যে রয়েছে ৪৪৪ জন নারী শান্তিরক্ষী। শুরু থেকে এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সর্বমোট ১৬৮ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। এই বছর ২ জন আহত শান্তিরক্ষীকে সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আহত শান্তিরক্ষীদের জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরার লক্ষে বিশেষ জার্নাল ও জাতীয় দৈনিকসমূহে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ হবে এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি চ্যানেলে বিশেষ টক-শো প্রচার হচ্ছে। এছাড়াও, শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের কার্যক্রমের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার হবে।
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আহত শান্তিরক্ষীদের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, তিন বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
Comments