মুজিবনগরে ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে নাগরিক সমাজের ক্ষোভ
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণের ঐতিহাসিক স্থান মুজিবনগরে বিভিন্ন ভাস্কর্য ও স্মারক ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের নাগরিক সমাজ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষায় সরকারের 'নির্লিপ্ততার' সমালোচনা করেন এবং ৫ দফা সুপারিশ উত্থাপন করেন। এসব সুপারিশগুলো হচ্ছে:
১. মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সসহ সারাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত সকল স্মৃতিস্তম্ভ ও ভাস্কর্য অবিলম্বে পুনর্নির্মাণ করতে হবে।
২. গণকবর, বধ্যভূমিসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহ সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ধ্বংসকারী ও হামলাকারী দুর্বৃত্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৪. মুজিবনগর দিবসসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল ঐতিহাসিক দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে হবে।
৫. নির্মাণাধীন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কাজ দ্রুত শেষ করে সেখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০০টি ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্য, অপারেশন সার্চলাইটের চিত্রায়ন এবং ঐতিহাসিক স্বাক্ষর স্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি মুক্তিযুদ্ধকে মানুষের মন থেকে মুছে দিতেই এসব পরিকল্পিত হামলা চালাচ্ছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক আবু সাইদ খান বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে একদল ছদ্মবেশী দুর্বৃত্ত মুজিবনগর কমপ্লেক্সে ভাঙচুর চালিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক যে, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এসব রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেয়নি এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করেনি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এবারের মুজিবনগর দিবসে সরকারিভাবে কোনো কর্মসূচি না থাকা এবং কোনো মন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন না করাটা জাতিকে ব্যথিত করেছে।
বাসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, "যাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ গাত্রদাহের কারণ, তারাই ইতিহাস ধ্বংস করতে চায়। মুজিবনগর গোটা জাতির অহংকার; একে রক্ষায় গণ-প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।"
নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, "মুজিবনগর আমাদের প্রথম রাজধানী। নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে এটিকে পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।"
সংবাদ সম্মেলনে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরীসহ আরও অনেক মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা একযোগে দাবি জানান, রাজনৈতিক দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের নির্মোহ ইতিহাস ও বীরত্বগাঁথা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
Comments