নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর ১১৬ উপজেলা, প্রভাব ১০১ আসনে
কেবল একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের আসনগুলোতে দলীয় প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের নির্ধারক হতে পারেন স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহীরা। দুই ও এর বেশি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনের ক্ষেত্রে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে চারটি বিষয়। এগুলো হলো– নারী ভোটার, নতুন ভোটার, প্রার্থীর নিজ এলাকার বাইরের উপজেলায় তাঁর ভোটব্যাংক ও দলীয় প্রভাব।
দেশের আট বিভাগের ১৬৭টি আসন থেকে সমকালের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কোন আসনে কোন বিষয়গুলো ফলাফল নির্ধারণে প্রভাবক হতে পারে, তা বের করার চেষ্টা করেছে সমকাল। তাতে এই সম্ভাব্য চিত্র পাওয়া গেছে।
এই ১৬৭টির মধ্যে ৬৬টি আসন একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনের সংখ্যা ৭৩টি। এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াত, বিদ্রোহী ও জোটের প্রার্থীরা একই এলাকার বাসিন্দা– এমন উপজেলা আছে ৪৭টি। ফলে আসনের দ্বিতীয় উপজেলার ভোট তাদের জন্য ফল নির্ধারক হতে পারে।
আবার সদর উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন– এই তিন এলাকা নিয়ে গঠিত আসন আছে ২৮টি। এর মধ্যে একই এলাকার প্রার্থী আছেন আটটিতে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই বা তার অধিক উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নিয়ে গঠিত মোট আসনের সংখ্যা ১০১টি। এসব আসনে ১১৬টি উপজেলার ভোট ফলাফল নির্ধারণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, ৫৫টি উপজেলায় মূল প্রার্থীরা স্থানীয়। ফলে দ্বিতীয় উপজেলার ভোট তাদের জন্য ফলাফলের নিয়ামক। আবার ৬১টি উপজেলা ভোটারের সংখ্যার দিক থেকে অন্য উপজেলার চেয়ে বেশি এবং গুরুত্বপূর্ণ। এই বিবেচনায় ১১৬টি উপজেলার ভোট ১০১টি আসনে ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বিভিন্ন সময় হওয়া সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ও প্রার্থীদের তথ্য নিয়ে ডেটাবেজ তৈরি করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনটির বরিশাল মহানগর শাখার সম্পাদক রফিকুল আলম বলছেন, একাধিক উপজেলা নিয়ে সংসদীয় আসন হলে ভোটারদের মধ্যে আঞ্চলিকতার প্রভাব কাজ করে। দলনিরপেক্ষ ভোটারদের মধ্যে এর প্রভাব বেশি থাকে। তারা চান নিজেদের উপজেলা থেকে এমপি হোক। বিশেষ করে সংসদীয় আসন নদী দিয়ে বিভক্ত হলে এপার-ওপারের আঞ্চলিকতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সে ক্ষেত্রে প্রার্থীরাও কৌশলী হন। নিজ উপজেলার বাইরের ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রধানত তিনটি প্রতিশ্রুতি দেন– যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়নের বৈষম্য দূর করা।
এক উপজেলা নিয়ে গঠিত আসন
সমকালের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ৬৬টি আসনে বিভিন্ন দলের মোট প্রার্থী ৪১৬ জন। সবচেয়ে বেশি ১২৯ জন চট্টগ্রাম বিভাগের ১৯টি আসনে। ঢাকা বিভাগের ৯ আসনে প্রার্থী ৭০ জন। এই ৬৬ আসনের ১৬টিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আছে। জামায়াতের আছে একটিতে। সব প্রার্থী একই উপজেলার হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, এসব আসনে ভোটের লড়াই হবে জমজমাট।
বিদ্রোহীদের পাশাপাশি এক উপজেলাভিত্তিক আসনে ফলাফলে ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন নতুন ভোটাররা। ৬৬টি আসনের মধ্যে যেগুলোতে নতুন ভোটার সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে, তার একটি নারায়ণগঞ্জ-২ আসন। সেখানে নতুন ভোটার ৩০ হাজার ৮৩২। এই ভোটারদের অধিকাংশ যেদিকে ঝুঁকবেন, সেদিকে জয়ের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এই আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৬৪ হাজার ৯৮ জন।
আবার সবচেয়ে বেশি ১৩ প্রার্থী আছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে। আসনটি বিএনপি তাদের জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীকে ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু বিএনপির দুজন বহিষ্কৃত নেতা এখানে প্রার্থী হয়েছেন। তারা হলেন– সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন এবং দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য শাহ আলম। একসময় বিএনপির রাজনীতি করা মোহাম্মদ আলী (সাবেক এমপি) নতুন দল রিপাবলিকান পার্টির হয়ে নির্বাচন করছেন। জামায়াত আসনটি ছেড়ে দিয়েছে শরিক দল এনসিপিকে, প্রার্থী আব্দুল্লাহ আলম আমিন।
এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছারের বই 'বাংলাদেশ নির্বাচন: আইন বিধিমালা, তথ্য ও ফলাফল' অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রদত্ত এক লাখ ৯০ হাজার ভোটের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে বিএনপি ৬৩ হাজার ৮৬৬ ভোট। জামায়াতের প্রার্থী পেয়েছিলেন তিন হাজার ৮৬২টি। জয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের শামীম ওসমান।
২০১৮ সালে প্রদত্ত প্রায় পাঁচ লাখ ভোটের মধ্যে বিএনপির শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনির কাসেমী পেয়েছিলেন সাড়ে ৭৬ হাজার ভোট। কাসেমী এবারও বিএনপি জোটের প্রার্থী। সংসদীয় এলাকা পুনর্বিন্যাসের পর আসনটির মোট ভোটার এখন পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ৩২৫ জন, যা ভাগাভাগি হতে পারে এনসিপি, বিএনপির জোট, বিদ্রোহী ও দলটির সাবেক নেতার মধ্যে।
নতুন ভোটারদের মধ্যে তরুণরা কোন দিকে ঝুঁকতে পারেন, তা নিয়ে একটি পূর্বাভাস দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু। তাঁর মতে, আগের চাইতে বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে বড় পার্থক্য আছে। তাদের কাছে আবেগের চাইতে বাস্তবতার গুরুত্ব বেশি। নাগরিক সমস্যাগুলোর বিপরীতে চেতনাভিত্তিক প্রতিশ্রুতির গুরুত্ব কম।
তবে প্রার্থীর দলীয় প্রভাব, রাজনীতি-সচেতন ভোটারের মধ্যে পরিচিতি, আগের নির্বাচনকেন্দ্রিক ভোটব্যাংকও 'ফ্যাক্টর' হওয়ার উদাহরণ দেখা গেছে বিগত নির্বাচনগুলোতে। এমন একটি আসন কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম)। জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। ২০০১ ও ২০০৮ সালে এ আসনে প্রার্থী দেয়নি বিএনপি। তাহের এমপি হন ২০০১ সালে। এবার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আছেন বিএনপির দলীয় ও চৌদ্দগ্রাম শাখার সভাপতি কামরুল হুদা। টানা তিনটি নির্বাচন করায় আবদুল্লাহ তাহের বিএনপির প্রার্থীর তুলনায় নিজস্ব ভোটব্যাংকের সুবিধা পেতে পারেন।
অন্যদিকে, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সবাই নিজ দলের উপজেলা শাখার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ৯৬ ও ২০০১ সালে আসনটি বিএনপি ধরে রাখলেও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের কাছে হারায়।
বিগত নির্বাচনগুলোর ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশের অন্য জেলার তুলনায় রাজশাহী বিভাগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার ভোট দেন। এর মধ্যে ২০০৮ সালে সারাদেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯০.৪২ শতাংশ (প্রথম খুলনা-৯০.৪৩) ভোট পড়ে রাজশাহীতে। একক আসনভেদে রাজশাহী-৪-এ (বাগমারা) ভোট পড়েছিল ৯৪.৪৭ শতাংশ। এবার আসনটিতে পুরুষদের (এক লাখ ৩৯ হাজার ২৯১) তুলনায় নারী (এক লাখ ৪০ হাজার ৮৮৪) ভোটার বেশি। ফলে প্রার্থীদের কাছে নারী ভোটাররা বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
দুই উপজেলাভিত্তিক আসনের সমীকরণ
দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত আসন আছে ৭৩টি। এর মধ্যে ৪৭টি আসনে মূল দলগুলোর প্রার্থীরা সবাই এক উপজেলার বাসিন্দা। ফলে দ্বিতীয় উপজেলাটি হবে তাদের জন্য ফলাফল নির্ধারক।
যেমন বগুড়া-৫ আসন গঠিত শেরপুর ও ধুনট উপজেলা নিয়ে। বর্তমানে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৭২ হাজার ৩৪০ জন। ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ সালের পাঁচটি নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ছিল সর্বনিম্ন ৭৮ ও সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ। ৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জিতলেও ২০০৮, ২০১৪ (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়) ও ২০১৮ সালে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। জামায়াত এককভাবে প্রার্থী দিয়েছিল ১৯৯৬ সালে; ভোট পেয়েছিল সাড়ে ২৩ হাজার (তৃতীয় স্থান)। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে প্রার্থী দিয়ে ইসলামী আন্দোলন ভোট পায় তিন হাজার ১৫৫টি। এতে বোঝা যায়, সম্ভাব্য মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর এই আসনে একটি ভোটব্যাংক আছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নেই। ফলে আগের নির্বাচনগুলোয় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলটির সমর্থকরা এবার ভোট দিলে বিএনপি, জামায়াত কিংবা অন্য দলের কাউকে বেছে নেবে। সে হিসেবে বলা যায়, বিএনপির বিপরীতে জামায়াত কিংবা অন্য দলগুলোর ভোট প্রাপ্তির হার অন্যবারের তুলনায় বেশি হতে পারে। কিন্তু আসনটিতে বিএনপির মতো জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরাও শেরপুর উপজেলার স্থানীয়। সেখানে ভোটার তিন লাখ আট হাজার ৪২৪ জন। বিপরীতে ধুনটের ভোটার দুই লাখ ৬৩ হাজার ৯১৬। ফলে স্থানীয় হিসেবে প্রার্থীরা শেরপুরে অধিকাংশ ভোট পেলে তাদের মধ্যে চূড়ান্ত ব্যবধান নির্ধারণ করে দিতে পারে ধুনটের ভোট। অর্থাৎ, প্রার্থীদের নিজ এলাকার বাইরের উপজেলার ভোটব্যাংক আসনটির ফলাফলের অন্যতম প্রভাবক হতে পারে।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ 'ফ্যাক্টর' হতে পারেন নতুন ভোটাররাও। বগুড়া জেলার সাতটি আসনের মধ্যে এখানেই নতুন ভোটার সবচেয়ে বেশি; ৩২ হাজার ৬৬১ জন।
কোনো উপজেলায় জোট, বিদ্রোহীসহ একাধিক স্থানীয় প্রার্থী থাকার উদাহরণ হতে পারে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা, দশমিনা)। এ আসনেও 'ফ্যাক্টর' বুঝতে বিগত নির্বাচনে দলভিত্তিক ভোটব্যাংকের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এখানে সব সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াত পৃথকভাবে প্রার্থী দিয়েছিল কেবল ১৯৯৬ সালে। ২০০১ ও ২০০৮ সালে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি। ১৯৯৬ সালে এক লাখ ৫৬ হাজারের মধ্যে প্রদত্ত ভোটের পরিমাণ ছিল ৯৭ হাজার ৩২৬টি। বিএনপির প্রার্থী পেয়েছিলেন ৩১ হাজার, জামায়াতের প্রার্থী তিন হাজার। ২০০১ ও ২০০৮ সালে দেড় ও দুই লাখ প্রদত্ত ভোটের মধ্যে বিএনপি পেয়েছিল যথাক্রমে ৬২ ও ৬১ হাজার।
এবারের নির্বাচনে আসনটিতে মোট ভোটার তিন লাখ ৭৫ হাজার ৮৭১ জন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি গলাচিপার স্থানীয়। উপজেলাটির ভোটার দুই লাখ ৫৪ হাজার ৩৩৮।
জামায়াত গলাচিপার স্থানীয় মোহাম্মদ শাহ আলমকে (জেলার সাবেক আমির) বেছে নিয়েছে। আগের নির্বাচনগুলোর সামগ্রিক ভোটব্যাংক বিবেচনায় উপজেলার ভোটের একটি অংশ এই দুজনের মধ্যে ভাগাভাগির সম্ভাবনা আছে। কিন্তু সমীকরণ জটিল করে তুলতে পারেন বিএনপি জোটের বিদ্রোহী হাসান মামুন (নির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য) ও ইসলামী আন্দোলনের আবু বক্কর ছিদ্দিকী। দুজনই দশমিনার স্থানীয়। যেখানে ভোটার এক লাখ ২১ হাজার ৫২৩। দল হিসেবে ইসলামী আন্দোলনেরও এখানে ভোটব্যাংক আছে। ২০০৮ সালে তাদের প্রার্থী ১৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন।
বিএনপির রাজনীতির সূত্রে হাসান মামুন দশমিনার পাশাপাশি গলাচিপায়ও জনপ্রিয়। ফলে নুর কিংবা শাহ আলমের জন্য নিজ উপজেলার পাশাপাশি 'ফ্যাক্টর' হতে পারে দশমিনার ভোট। আগের ভোটব্যাংক বিবেচনায় আওয়ামী লীগের সমর্থকরা কাকে বেছে নেবেন, সেটিও ফলাফলের অন্যতম নির্ধারক হতে পারে।
তিন উপজেলাভিত্তিক আসন
তিনটি উপজেলা (সিটি করপোরেশন এলাকাসহ) নিয়ে গঠিত আসন সংখ্যা ২৮টি। ঢাকা বিভাগে ছয়টি, ময়মনসিংহে পাঁচটি। রংপুর বিভাগে এমন আসন পাওয়া গেছে দুটি। এর মধ্যে উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে পঞ্চগড়-১ (সদর, আটোয়ারী, তেঁতুলিয়া) আসনের। এটি জাতীয় সংসদের ১ নম্বর আসন। মোট ভোটার চার লাখ ৫৮ হাজার ২৬০ জন। এর মধ্যে সদরের দুই লাখ ৩৭ হাজার ৮১৯ ভোট; যা বাকি দুই উপজেলার চেয়ে বেশি। কিন্তু প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপির নওশাদ জমির ও জামায়াত জোটের এনসিপির সারজিস আলম যথাক্রমে তেঁতুলিয়া (এক লাখ আট হাজার ৪২০) ও আটোয়ারীর (এক লাখ ১২ হাজার ২১) স্থানীয়। ফলে এ দুই প্রার্থীসহ বাকিদের এগিয়ে থাকতে হলে সদরের ভোট নিজের দিকে টানতে হবে।
এনসিপি নতুন দল। বিএনপি ১৯৭৯ সাল থেকে পরের আটটি নির্বাচনের মধ্যে ছয়বার এখানে প্রার্থী দিয়েছে। জামায়াত দিয়েছিল দুবার– ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে। ভোট পেয়েছিল যথাক্রমে সাড়ে ১৭ ও ১৬ হাজার, যা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় দলটির একটি ভোটব্যাংক এ আসনে আছে।
অন্যদিকে, বিএনপি চারবার এ আসনে এমপি (জমিরউদ্দীন সরকার ও মির্জা গোলাম হাফিজ) পেয়েছে। সর্বনিম্ন সাড়ে ৩৬ হাজার থেকে তাদের সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্তি ছিল এক লাখ সাত হাজার। ২০০৮ সালে তারা আসনটি আওয়ামী লীগের কাছে হারায়। তাই বিএনপির বিপরীতে ব্যবধান কমাতে বা বাড়াতে হলে বাকি দলগুলোর প্রার্থীদের আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ভোটারের সংখ্যাও (১৬ হাজার ৩৪৭) বেশ বড়।
Comments