২শ' বছরের ইতিহাসে প্রথমবার টেনেসিতে নারী বন্দির মৃত্যুদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো কোনো নারী বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। ৩০ বছর আগে, সহপাঠীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইকের বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা রয়েছে।
৫০ বছর বয়সী, পাইকের মৃত্যুদণ্ড টেনেসির রাজধানী ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে কার্যকর করার কথা। গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও শেষ মুহূর্তে মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।
পাইকের ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনও এর আগে প্রত্যাখ্যান করেন টেনেসির গভর্নর বিল লি। ওই আবেদনে তার আইনজীবীরা শৈশবের নির্যাতন, অবহেলা ও যৌন নিপীড়নের ইতিহাস তুলে ধরে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন।
১৮ বছর বয়সে সহপাঠীকে হত্যা
১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে, পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। তার ১৭ বছর বয়সী প্রেমিক এবং আরেক সহযোগীকে নিয়ে তারা ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যান। পরে সেখানে তাকে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়।
তিনজনই নক্সভিলের একটি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সহপাঠী ছিলেন। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, পাইক তার প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে স্লেমারের সম্পর্ক নিয়ে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতেন।
হত্যাকাণ্ডটি সে সময় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। তদন্ত ও বিচারকাজে উঠে আসে, হত্যার পর ভুক্তভোগীর বুকে পেন্টাগ্রামের আকৃতি খোদাই করা হয়েছিল এবং তার মাথার খুলির একটি অংশ স্মারক হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
পাইক ও শিপ হত্যার কথা স্বীকার করেন। ১৯৯৬ সালে, দু'জনকেই ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও শিপকে প্যারোলের সুযোগসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্য সহযোগী শ্যাডোলা পিটারসন হত্যার সময় ১৮ বছর বয়সী ছিলেন। তিনি অন্য দু'জনের জন্য পাহারায় ছিলেন এবং পরে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাকে প্রবেশনে মুক্তি দেওয়া হয়।
শৈশবের নির্যাতনের ইতিহাস তুলে ধরে ক্ষমার আবেদন
টেনেসির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের তালিকায় বর্তমানে একমাত্র নারী পাইক। ২০০১ সালে, কারাগারের আরেক বন্দীকে হত্যার চেষ্টা করার দায়েও তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।
পাইককে মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই দিতে তার আইনজীবীরা গভর্নরের কাছে ২২৬ পৃষ্ঠার আবেদন জমা দেন। এতে বলা হয়, শৈশবে তিনি সহিংসতা, অবহেলা ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ১১ ও ১৭ বছর বয়সে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
Comments