গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চীনে মার্কিন গবেষক আটক
জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করা এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে চীন। আটক ব্যক্তির নাম মিন জিন, যিনি প্রতিবেশী মিয়ানমার বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত।
শুক্রবার (১২ জুন) বেইজিংয়ে এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মিন জিনকে ইতিমধ্যে 'ফৌজদারি বাধ্যতামূলক ব্যবস্থার' আওতায় আনা হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি মিয়ানমার এর একজন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি-কে জানান, গত ৩ জুন মিয়ানমার সীমান্তবর্তী চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং বিমানবন্দর থেকে মিন জিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক এই গবেষকের ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্র জানায়, তিনি চীনে মূলত একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশ নিতে গিয়েছিলেন।
মিন জিন যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন, সেই আইএসপি-মিয়ানমার মূলত মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং চলমান সংঘাত নিয়ে গবেষণা করে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে তীব্র গৃহযুদ্ধ চলছে। এই প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু গবেষণায় মিয়ানমারের সীমান্ত অঞ্চলে চীনের একচ্ছত্র প্রভাব এবং বেইজিং সমর্থিত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে গবেষণা করার কারণেই চীনা কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে পড়েন তিনি। তবে ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি বেইজিং।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি গুয়াংঝুতে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
আটকের পরিবারের এক সদস্য জানান, 'মিন জিনের পরিবার এবং সহকর্মীরা মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো পরিবার চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।' তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বা আইএসপি-মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে চীন নিজের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থরক্ষায় অত্যন্ত কৌশলগত ভূমিকা পালন করছে। বেইজিং একদিকে যেমন মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে, অন্যদিকে সীমান্ত অঞ্চলের প্রভাবশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ওপরও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
Comments