আফগানিস্তানের কাবুলে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলায় লাশের মিছিল
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বিমান হামলায় বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তালেবান সরকার এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় কাবুলের ওই নিরাময় কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যমতে, হামলায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। বিবিসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্ট্রেচারে করে অন্তত ৩০টি মরদেহ বের করে নিয়ে আসতে দেখেছে। তবে তালেবানের দাবি অনুযায়ী, নিরাময় কেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েকশ মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারে এবং মৃতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়াতে পারে।
স্থানীয় সময় রাত ৮:৫০ মিনিটের দিকে কাবুলের বাসিন্দারা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পরপরই আকাশে যুদ্ধবিমান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দ শোনা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটিতে প্রায় ২,০০০ মানুষ চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফাত জামান অমরখাইল জানিয়েছেন, নিরাময় কেন্দ্রটির আশেপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। এটি এক সময় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকলেও ২০২১ সালে তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর একে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হয়। মঙ্গলবার সকালেও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়েছেন।
পাকিস্তান এই হামলার দায় স্বীকার করলেও নিরাময় কেন্দ্রে আঘাত হানার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। ইসলামাবাদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, তারা কাবুল ও নানগারহার প্রদেশে শুধু 'সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা ও সামরিক স্থাপনা' লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তালেবান সরকারের দাবিকে 'তথ্য বিকৃতি' হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান মূলত আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদকে আড়াল করতে এই ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে।গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জন নিহত এবং ১৯৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত অক্টোবরে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছালেও সীমান্তে সংঘর্ষ থামেনি। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে, যা তালেবান কর্তৃপক্ষ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
চীন এই সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গত সপ্তাহে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন। সোমবার বেইজিং উভয় দেশকে শান্ত থাকার, সংযম প্রদর্শনের এবং যত দ্রুত সম্ভব সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে।
কাবুলের এই হামলা এবং বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষের মৃত্যু দুই প্রতিবেশীর মধ্যে শত্রুতাকে আরও উসকে দিতে পারে। স্বজনদের খোঁজে নিরাময় কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের আহাজারিতে কাবুলের বাতাস এখন ভারী হয়ে উঠেছে।
Comments