ইরান কি হতে চলেছে আমেরিকার জন্য আরেক ভিয়েতনাম?
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত দিন দিন আরও জটিল ও বিস্তৃত আকার ধারণ করছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে প্রশ্ন উঠছে-এই যুদ্ধ কি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরেকটি "ভিয়েতনাম" হয়ে দাঁড়াতে পারে?
ইসরায়েল ও ইরানের সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হলেও তা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়েছে লেবানন, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে। ইরানের মিত্র গোষ্ঠী যেমন হিজবুল্লাহ এবং বিভিন্ন মিলিশিয়া গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে। ফলে যুদ্ধ এখন আর দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইতোমধ্যে ইরানের বহু সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে এবং আকাশপথে তাদের সুস্পষ্ট আধিপত্য রয়েছে। কিন্তু ইতিহাস বলছে, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে সব যুদ্ধ জেতা যায় না।
ভীযেতনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল সামরিক শক্তি নিয়েও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও মানসিক যুদ্ধে হেরে যায়। কারণ ছিল- দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, স্থানীয় প্রতিরোধ, গেরিলা কৌশল, জনসমর্থনের অভাব
এই একই উপাদানগুলো এখন ইরান পরিস্থিতিতেও দেখা যাচ্ছে। ইরান সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষে না গিয়ে "প্রক্সি যুদ্ধ" বা ছায়াযুদ্ধের কৌশল নিয়েছে। তারা বিভিন্ন দেশে মিত্র মিলিশিয়া ব্যবহার করছে
,ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে (যেমন দূতাবাস, ঘাঁটি) আঘাত হানছে । এই ধরনের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে ফেলে—যেমনটি ভিয়েতনামে হয়েছিল।
ইরান ভৌগোলিকভাবে বিশাল, পাহাড়ি এবং প্রতিরক্ষার জন্য উপযোগী। এটি সরাসরি দখল করা বা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত কঠিন। ভিয়েতনামের মতোই এখানে স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধও বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।
দীর্ঘ যুদ্ধ মানে বিপুল ব্যয়। ইতোমধ্যে তেলের দাম বৃদ্ধি, বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও যুদ্ধবিরোধী মনোভাব বাড়তে পারে—যা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় বড় ভূমিকা রেখেছিল। পুরোপুরি একই পরিস্থিতি না হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে- দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সম্ভাবনা,সরাসরি নয়, ছায়াযুদ্ধের আধিক্য,আঞ্চলিক জটিলতা, রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি ।
তবে পার্থক্যও আছে যেমন , আধুনিক প্রযুক্তি ও ড্রোন যুদ্ধ, সরাসরি পূর্ণমাত্রার স্থলযুদ্ধ এখনও শুরু হয়নি, আন্তর্জাতিক জোট ও কূটনৈতিক সমীকরণ ভিন্ন ।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে একে সরাসরি "ভিয়েতনাম" বলা যায়। তবে যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক চাপ বাড়ে—তাহলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কঠিন ও ক্লান্তিকর সংঘাতে পরিণত হতে পারে। সুতরাং, প্রশ্নটির উত্তর এখনো অনিশ্চিত। কিন্তু সতর্ক সংকেতগুলো স্পষ্ট।
Comments