শিশু প্রজনন খামার’ গড়তে চেয়েছিলেন জেফরি এপস্টিন
জেফরি এপস্টিন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে মারা যাওয়ার আগে নিজের শুক্রাণু ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক সন্তানের জন্ম দেওয়ার একটি পরিকল্পনা করেছিলেন—এমন তথ্য বিভিন্ন সূত্রের বরাতে উঠে এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি নিউ মেক্সিকোতে তাঁর জোরো র্যাঞ্চে নারীদের গর্ভধারণ করিয়ে নিজের ডিএনএ বহনকারী এক ধরনের মানবগোষ্ঠী তৈরির কথা বিজ্ঞানী ও পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে বলতেন। অনেকে এই ধারণাকে "বেবি র্যাঞ্চ" বলে উল্লেখ করেছেন। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবে কার্যকর হয়েছিল কি না বা আইনগত অবস্থান কী—তা নিশ্চিত নয়।
এপস্টিন অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তিনি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ও গবেষণায় অর্থ সহায়তা দিতেন এবং ব্যক্তিগত আয়োজনের মাধ্যমে অভিজাত বিজ্ঞানী মহলে প্রবেশ করেন। তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল মারে গেল-মান, স্টিফেন হকিং, স্টিফেন জে. গুল্ড ও জর্জ চার্চসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানীর। পরে অনেকে স্বীকার করেন, তহবিলের আশায় তাঁরা এপস্টিনের অপরাধমূলক অতীতকে গুরুত্ব দেননি।
নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে–সংলগ্ন তাঁর বিশাল র্যাঞ্চকে কেন্দ্র করে তিনি বহু সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনার কথা ২০০১–২০০৬ সালের বিভিন্ন নৈশভোজ ও সভায় বলেছিলেন বলে একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন। ধারণাটি "রিপোজিটরি ফর জার্মিনাল চয়েস" নামের পুরোনো এক স্পার্ম ব্যাংকের ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত ছিল, যেখানে 'উন্নত জিন' ছড়ানোর কথা বলা হতো। পাশাপাশি এপস্টিন নিজের দেহ ভবিষ্যতে পুনরুজ্জীবনের আশায় সংরক্ষণের (ক্রায়োনিকস) ইচ্ছার কথাও বলতেন।
এপস্টিনের সন্তান ছিল কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা আছে। কিছু প্রকাশিত নথি ও ডায়েরির উল্লেখ থেকে সন্দেহ জেগেছে, তবে নিশ্চিত প্রমাণ নেই। তাঁর উইলে সন্তানের উল্লেখ নেই। বিভিন্ন অভিযোগ, মামলা ও সাক্ষ্য সামনে এলেও এসব তথ্যের অনেকগুলোর সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই হয়নি। সার্বিকভাবে, এপস্টিনের অর্থ, প্রভাব, বিকৃত ব্যক্তিগত ধারণা এবং প্রভাবশালী মহলে প্রবেশের কৌশল—সব মিলিয়ে তাঁর এই কথিত পরিকল্পনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
Comments