এপস্টিনের বিশাল সম্পদের উত্তরাধিকারী কারা
যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের একসময় প্রায় ৬০ কোটি ডলার সমমূল্যের সম্পদ ছিল। ২০১৯ সালে মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগে একটি দলিলে স্বাক্ষর করে তিনি নিজের সম্পদের একটি বড় অংশ তাঁর তৎকালীন প্রেমিকার নামে লিখে দেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সম্প্রতি প্রকাশ করা এপস্টিন নথিতে এই দলিল রয়েছে।
নথি অনুযায়ী এপস্টিন জানিয়েছেন, তিনি তাঁর প্রেমিকা কারিনা শুলিয়াককে বিয়ে করার কথা ভাবছিলেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, এপস্টিন সেই দলিলে সই করার পর শুলিয়াক তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সুবিধাভোগী হয়ে ওঠেন। এর মাধ্যমে তিনি এপস্টিনের একসময়কার বিশাল সম্পদের একটি বড় অংশ পান।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টিন-সংক্রান্ত ৩০ লাখ পৃষ্ঠার বেশি নথি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করে। তখন '১৯৫৩ ট্রাস্ট' নামে পরিচিত ৩২ পৃষ্ঠার ওই দলিলের একটি অনুলিপিও সামনে আসে।
ওই দলিলে সম্ভাব্য সুবিধাভোগী হিসেবে শুলিয়াক এবং আরও ৪০ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে তাঁরা ঠিক কী পরিমাণ অর্থ বা সম্পদ পাবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ, গত সাত বছরে আইনজীবীদের ফি, কর এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর এপস্টিনের সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
মৃত্যুর সময় এপস্টিনের সম্পদের অর্থমূল্য ছিল প্রায় ৬০ কোটি ডলার। তবে সম্প্রতি আদালতের একটি নথিতে দেখা যায়, এই সম্পদের মূল্য নাটকীয়ভাবে কমে বর্তমানে ১২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এপস্টিনের জন্মসালের নামানুসারে '১৯৫৩ ট্রাস্ট'-এর নামকরণ করা হয়েছে। এটা এর আগে আর কখনো জনসমক্ষে আসেনি। দলিল অনুযায়ী, শিশু নিপীড়ক এপস্টিনের তৎকালীন ৩৬ বছর বয়সী প্রেমিকা শুলিয়াক ১০ কোটি ডলার সমমূল্যের অর্থ পেতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে তাঁর সুবিধার জন্য নির্ধারিত ৫ কোটি ডলারের একটি বার্ষিক বৃত্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি এপস্টিনের স্থাবর সম্পত্তির বড় একটি অংশ পাবেন। কিন্তু এপস্টিনের মালিকানাধীন অধিকাংশ আবাসিক বা বাসযোগ্য সম্পত্তি এরই মধ্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
প্রয়াত এই যৌন অপরাধীর ট্রাস্টে অংশীদার হিসেবে তালিকায় থাকা অন্য দুই সুবিধাভোগী হলেন—এপস্টিনের ব্যক্তিগত আইনজীবী ড্যারেন ইনডাইক এবং তাঁর নিজস্ব হিসাবরক্ষক রিচার্ড কান।
ইনডাইক ও কান—দুজনেই এপস্টিনের সম্পত্তির সহনিষ্পত্তিকারী (কো-এক্সিকিউটর)। ট্রাস্ট থেকে ইনডাইককে ৫ কোটি ডলার এবং কানকে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত নথিপত্রে কারিনা শুলিয়াকের নাম বেশ কয়েকবার উল্লেখ রয়েছে। বেলারুশের নাগরিক শুলিয়াক ২০১২ সাল থেকে এপস্টিনকে চিনতেন। এপস্টিন তাঁর ডেন্টাল স্কুলে পড়ার খরচ জুগিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্ক শহরে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
এপস্টিনের সম্পত্তির আইনজীবী ড্যানিয়েল ওয়েইনার জানিয়েছেন, কান, ইনডাইক বা নথিতে উল্লিখিত অন্য কোনো সুবিধাভোগী ততক্ষণ পর্যন্ত ওই সম্পত্তি থেকে কোনো অর্থ পাবেন না, যতক্ষণ না ঋণদাতা এবং সম্পত্তির ওপর থাকা অন্যান্য দাবিদারের পাওনা পুরোপুরি মেটানো হচ্ছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পাওনার মধ্যে এপস্টিনের হাতে
এপস্টিনের সম্পত্তির সম্ভাব্য সুবিধাভোগী হিসেবে বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত নথিপত্রে ৪০ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে।
এরমধ্যে রয়েছে —গিলেন ম্যাক্সওয়েল, মার্ক এপস্টিন, কারিনা শুলিয়াক, ড্যারেন ইনডাইক, রিচার্ড কান এবং মার্টিন নোওয়াক।
তথ্যসূত্র:
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
Comments