‘হামাক কেউ হ্যাঁ-না ভোট দিবার কয়নি, সেজনি ভোট দেইনি’
গণভোটে ভোটপ্রদান করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন অনেক ভোটার। কেউ কেউ ব্যালটে কোনো সিল না দিয়েই বাক্সে জমা দিয়েছেন। বগুড়ার শিবগঞ্জে একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে এমন কথা বলেছেন কয়েকজন ভোটার।
শিবগঞ্জ উপজেলা বগুড়া-২ আসনে। এ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের বুলুরচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে কথা হয় কৃষক মোস্তাফিজার রহমানের সঙ্গে। তিনি গণভোটের সিলবিহীন ব্যালট জমা দিয়েছেন।
মোস্তাফিজার বলেন, 'হ্যাঁ-না ভোট কি সেটা বুজিনি। সেজনি (সেজন্য) ভোট দেইনি।' এ সময় মোস্তাফিজারের পাশে ছিলেন আরেক ভোটার মহিদুল ইসলাম। তিনিও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান।
বুলুরচক গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাফিজার আরও বলেন, 'হামার (আমার) কাছে দাঁড়িপাল্লা আর ধানের শীষের মানুষে ভোট চাইছে। হামাক (আমাকে) কেউ হ্যাঁ-না ভোট দিবার কয়নি। হ্যাঁ ভোট দিলে কে জিতবি, আর না দিলে কে হারবি তা আমি বুঝবার পারিনি। হ্যামি খালি ব্যালট জমা দিছি।'
কেন্দ্রটিতে ২ হাজার ৩২৩ ভোটের মধ্যে বেলা ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৫৯৬টি। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আইয়ুব আলী শেখ জানান, তারা ভোটারদের গণভোট দিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। কেউ গণভোট দিচ্ছেন, কেউ দিচ্ছেন না।
বগুড়া-২ আসনের আরেকটি কেন্দ্র মোলামগাড়ি উচ্চ বিদ্যলয়। এখানকার ভোটার সাবিনা ইয়াসমিনও গণভোট নিয়ে বুঝতে না পারার অভিজ্ঞতার কথা বলেন। সাবিনা বলেন, তাঁর কাছে কেউ হ্যাঁ-না ভোটের বিষয় কিছু বলেননি। তিনি খালি ব্যালট জমা দিয়েছেন।
তবে এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, যেসব ভোটার গণভোট প্রদানের বিষয়ে বুঝতে পারছেন না তাদের তাৎক্ষণিক বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বগুড়া-২ আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। অংশগ্রহণকারী ছয়জন প্রার্থীদের মধ্যে আছেন বিএনপির মীর শাহে আলম, জামায়াতের শাহাদুজ্জামান, নাগরিক ঐক্যের মাহামুদুর রহমান মান্না, ইসলামী আন্দোলনের জামাল উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম। সম্প্রতি জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরিফুল ইসলাম এই আসনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
Comments