ধর্ম নয়, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী
ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের সমান নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে যার যা অধিকার রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর পবিত্র দায়িত্ব।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিয়েছিলেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবাই অংশ নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, 'জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কোনো কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা আমরা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই একসঙ্গে অংশ নিয়েছি।' ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে দলমত ও ধর্ম নির্বিশেষে সকল নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে ধর্মীয় কোনো ভেদাভেদ ছিল না।
আল্লাহর পক্ষ থেকে দেশসেবার যে সুযোগ তিনি পেয়েছেন, তা কাজে লাগিয়ে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তারা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। বিএনপিকে ভোট দিয়ে যে তারা ভুল করেননি, তা সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। সরকারের প্রতি তাদের এই সমর্থন ও সহযোগিতা সবসময় অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান। এ সময় তারা শারদীয় দুর্গোৎসবের ছুটি ও সরকারি অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং বিএনপির বিগত দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে নেওয়া নানা উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
বৈঠকে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচএস পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য। এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
Comments