ধারাবাহিক চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেবে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর ও জনকল্যাণমুখী করতে পারস্পরিক যোগাযোগ, আস্থা এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধিদলের এবারের চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) চীনা দূতাবাস আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সফরপূর্ব এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে এটি দ্বিতীয় প্রতিনিধিদলের চীন সফর। এই সফরকে শুধু আনুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সে দেশের সরকারি কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে চীনের বিশাল উন্নয়নের পেছনের কৌশল বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, "আপনারা ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধি। চীনকে শুধু আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমে দেখলে হবে না। তাদের সংস্কৃতি, প্রতিষ্ঠান ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। কীভাবে চীন এত বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তর ঘটিয়েছে, তা আমাদের অনুধাবন করা জরুরি।" চীনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার ও উদ্ভাবনী সফলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চীনে হওয়ায় তাদের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয় হতে পারে।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ স্মরণ করেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল। সময়ের পরিক্রমায় সেই সম্পর্ক এখন 'সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে' উন্নীত হয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশও এখন অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়ন এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ। দুই দেশের জনগণের মেলবন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে তিনি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চীনের ই-ভিসা ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে বিদ্যমান এই সুসম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চীনা দূতাবাসের আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
Comments