বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশেও সমন্বয়ের চিন্তা করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে একটি টেকসই পর্যায়ে স্থিতিশীল হলে সরকার দেশেও জ্বালানি তেলের মূল্য পুনঃসমন্বয়ের কথা বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার এর আগেও বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করেছে। ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম মূল্যে স্থিতিশীল থাকলে সরকার দেশেও তা পুনঃসমন্বয় করবে।
বর্তমান সরকারের ৮ মাসের কার্যকালে জিনিসপত্রের দাম ও জ্বালানি সংকট নিয়ন্ত্রণকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশি বিনিয়োগের পরিবেশ জোরদার হবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মূল্যস্ফীতি কমে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফিরবে।
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল প্রসঙ্গে তিনি জানান, চালকদের ইতিবাচক দিকগুলো বিবেচনা করে সরকার ইতোমধ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। তবে কোনো মহল অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন চালু রাখার দাবি জানালে বা বিদ্যুৎ খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তা স্পষ্টত ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। মিরপুরের সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার কোনো বিশেষ অভিযান নয়, বরং প্রচলিত আইনের মাধ্যমেই যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করবে।
রাষ্ট্র ও জনগণের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষা করেই সরকার যেকোনো সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান উপদেষ্টা। তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, নদী শাসনের পাশাপাশি বর্ষার পানি সংরক্ষণের (ওয়াটার রিটেনশন) বিষয়টি নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ নিজেদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই এগোবে।
শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত বা অভিযান চালিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। আমদানিকারক ও উৎপাদনকারীরা যেন পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান এবং জোগান ব্যাহত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবের অংশ হিসেবে ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) কর্মসূচির আওতায় চালের বরাদ্দ ১০ কেজির পরিবর্তে ২০ কেজিতে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা এবং তথ্য অধিদপ্তরের সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
Comments