অপ্রতিম হত্যায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি পুলিশের
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দম্পতির ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক দল ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছে। তদন্তে ইতোমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, অপ্রতিমকে হত্যার পেছনে শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো কারণ জড়িত তা দ্রুত বের করার চেষ্টা চলছে। ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
সদর দক্ষিণ থানার ওসি রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তুহিন নামের এক যুবকের সঙ্গে অপ্রতিমের সর্বশেষ সময় কাটানোর তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে তুহিন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ির বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি।
পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশে একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
অপ্রতিম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
মরদেহটি প্রথম দেখতে পান আবদুল কাদের জিলানী। তিনি জানান, বাঁশ কাটার উদ্দেশ্যে জঙ্গলে যাওয়ার সময় দূর থেকে প্রথমে মনে হয়েছিল সেখানে কেউ ঘুমিয়ে আছে। কাছে গিয়ে মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরে বিষয়টি মামুন নামে একজনকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি অপ্রতিমের বলে শনাক্ত করেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ, ডিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি।
অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Comments