ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন: কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ঢাবি প্রশাসনের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রচলিত বিধিবিধান লঙ্ঘন করে এসব ছবি প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন ব্যক্তিদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছে প্রশাসন।
১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের। অথচ ডাকসু কর্তৃপক্ষ কোনো অনুমোদন বা আলোচনা ছাড়াই কলাভবন সংলগ্ন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে 'নির্ভীক জুলাই' নামে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে, যা সম্পূর্ণ এখতিয়ারবহির্ভূত। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া শিক্ষকদের মূল্যায়ন সংক্রান্ত ওয়েবসাইট চালু এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামের পরিপন্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসন বা সমান্তরাল কাঠামো প্রতিষ্ঠার চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ডাকসু একটি ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও তার প্রতিটি কার্যক্রমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করতে হবে। অন্যথায় অনুমোদনহীন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ঢাবি প্রশাসন।
Comments