এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। এআই নির্মাতাদের বড় একটি অংশ প্রযুক্তিটি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করলেও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান প্রশাসন এ বিষয়ে অনেকটাই নির্লিপ্ত অবস্থান নিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে 'নেতিবাচক শক্তির প্রোপাগাণ্ডা' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনও জরুরি আইন প্রণয়নের আহ্বান নাকচ করে বলেছেন, কংগ্রেসের তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই; বরং যুক্তরাষ্ট্র এআই উন্নয়ন ধীর করলে চীন এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে—যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিসসহ দলটির অন্য নেতারা সরকারি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এআই-এর অবাধ বিকাশকে 'বিপজ্জনক' অভিহিত করে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন।
অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেই, ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান, ইলন মাস্ক এবং ডেমিস হাসাবিসসহ শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা এআইয়ের গতি কমানো ও স্বাধীন মূল্যায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন। গবেষক জ্যাকব কক্সনের মতে, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্যও হুমকি হতে পারে।
এনবিসি নিউজের এক জরিপে ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এআই নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চাকরি হারানোর আশঙ্কা, বিশাল ডেটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুৎ-পানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং ইউটিলিটি বিল বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো এখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়সংকটের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে।
এআই এখন কেবল প্রযুক্তিগত আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং আসন্ন মধ্যবর্তী ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
এআই শিল্পকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় চালিকাশক্তি মনে করায় ট্রাম্প প্রশাসন এর গতি কমাতে অনাগ্রহী। তবে ডেমোক্র্যাটরা এই সুযোগকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দ্রুত কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রণয়নের দাবি জোরালো করছেন।
Comments