দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি অতীতে যেমন বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিল, তেমনি দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাও এই দলের হাত ধরেই বিকশিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি জেনারেল আন্দা ফিলিপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের পুরো বিষয়টি ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আইপিইউ সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করছেন, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর সুদৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে। এছাড়া তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতের উদ্যোগ ও কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেছেন, 'আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। এ সময় আমাদের দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।'
গণতন্ত্রের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও আমরা আশাবাদী। একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।'
বৈঠকে নারীর ক্ষমতায়ন ও তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের কাজের উদ্যমের প্রশংসা করেন আইপিইউ সেক্রেটারি। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, নারীর ক্ষমতায়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ সময় তিনি নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক বা বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথা জানান। পাশাপাশি 'ফ্যামিলি কার্ড' প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। এ সময় তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণ দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।
Comments