নেপালে দ্বিতীয় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা: নতুন সতর্কবার্তা জারি
নেপালের রাসুয়া জেলায় সম্প্রতি আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন আরেকটি বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ইসিমোড) জানিয়েছে, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে এখনও একটি বিশাল বাধা আটকে থাকায় যেকোনো মুহূর্তে দ্বিতীয় দফায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
সীমান্তের উজানে প্রতিবন্ধকতা না থাকায় দ্বিতীয় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি রয়েছে। বনভূমি ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ১৬২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ৪০৩ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। জিলং বন্দর এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট ভোতে কোশি অববাহিকায় হঠাৎ করেই এই বন্যার সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে গালছছিতে ত্রিশূলী নদীর পানির স্তর ৯ মিটার এবং মালেকুতে প্রায় ৭ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
হিমালয় অঞ্চলের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইসিমোডের তথ্য অনুযায়ী, লেন্দে খোলায় গত ১৪ মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দফার বন্যা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬২ জনের প্রাণহানি হয়েছে এবং ৪০৩ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন (যার মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি)। এছাড়া নিখোঁজদের তালিকায় ২৮ জন পুলিশ সদস্যও অন্তর্ভুক্ত আছেন। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও করণীয়
-
কিয়াংগং ঝাং (জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগ প্রধান): গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একই স্থান আবারও হুমকির মুখে পড়েছে। লেন্দে খোলায় বরফধসের কারণে এমনটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
-
মো. ফারুক আজম (সিনিয়র ক্রায়োস্ফিয়ার স্পেশালিস্ট): হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলোকে এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত চরম বিপদ মোকাবিলায় দ্রুত যৌথ ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট, সিসমিক ও হাইড্রোলজিক্যাল ডেটা বিশ্লেষণ করে উজানের বাধার স্থিতিশীলতা যাচাইয়ের চেষ্টা করছেন। তবে ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য এখনো পুরোপুরি বিপদ কাটেনি বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: এনডিটিভি
Comments