ব্যক্তি বন্দনা ও স্তুতির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার: প্রেস সচিব
দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যক্তি বন্দনা ও স্তুতির রাজনীতি থেকে বর্তমান সরকার পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী। তাঁর দাবি, প্রচলিত বন্দনার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে সরকার দেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করেছে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের শাপলা হলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রেস উইং আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনকে 'হানিমুন পিরিয়ড' বলা হলেও, কোনো সরকারি পরিকল্পনার প্রাথমিক ফল পেতে অন্তত ছয় মাস সময় প্রয়োজন বলে জানান প্রেস সচিব। জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা এবং তাদের জানার অধিকার নিশ্চিত করতেই সরকারের ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্তিতে কাজের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য তুলে ধরে সালেহ শিবলী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের ৩১ দফা ধরে ধরে বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের একটি বড় অর্জন। অতীতে এভাবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো নজির দেখা যায়নি। এছাড়া রাজনীতিতে জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা সরকারের অন্যতম সাফল্য বলে জানান তিনি।
রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে প্রেস সচিব বলেন, মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করে আসছিল এবং বর্তমান সরকার সেই পরিবর্তনেরই সূচনা করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর হাম ও রুবেলার টিকা নিয়ে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার দায় বর্তমান সরকারের না থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে সন্তান ও স্বজন হারানো শোকাহত পরিবারগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা সরকারের দায়িত্ববোধ থেকেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সাম্প্রতিক কিশোরগঞ্জ সফরের কথা উল্লেখ করে সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে একটি 'কল্যাণমূলক রাষ্ট্র' হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এই ধরনের রাষ্ট্রে যেমন জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট দায়বদ্ধতা থাকবে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতিও নাগরিকদের স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে। রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়াবে এবং নাগরিকরাও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল থাকবে—এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার ও দল কাজ করে যাচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Comments