নিজস্ব কর্মকর্তাদের বঙ্গভভন ছাড়তে বললেন রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন-এমন আলোচনা আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়েছে। যদিও সরকার, বঙ্গভবন কিংবা বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি,তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে,স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
বঙ্গভবনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে,সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি নিজ কার্যালয়ের নিজের নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শিগগিরই বঙ্গভবন থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সূত্রগুলোর দাবি, পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন। পরে চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে আল–জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামির একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর। তিনি দাবি করেন,রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। তবে সরকার,বঙ্গভবন কিংবা বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক চিকিৎসা-ইতিহাসও এই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। গত মে মাসে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে কেমব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে করা এনজিওগ্রামে হৃদযন্ত্রের একটি ধমনিতে গুরুতর ব্লক ধরা পড়ে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে একটি স্টেন্ট বসানো হয়।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকার পর নয় দিন পর দেশে ফেরেন তিনি। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। যদিও দেশে ফেরার সময় বঙ্গভবনের প্রেস উইং জানিয়েছিল, রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা 'স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক',তবুও দায়িত্ব ছাড়ার আলোচনা থামেনি।
রাজনৈতিক মহলে আরেকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত জুনে মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরে সংসদে সফরের বিবরণ দিলেও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সাধারণত বিদেশ সফর শেষেপ্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে সফরের বিষয়ে অবহিত করেন।
এ কারণে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, রাষ্ট্রপতি ও সরকারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়ার আগ্রহ নতুন নয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সংসদ নির্বাচনের পর দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চান।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।" কেন এমন ভাবছেন-এই প্রশ্নের জবাবে তার সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল,"আমার ভালো লাগে না।"
Comments