জর্ডানে ২ মার্কিন সেনা নিহতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা
জর্ডানে ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এর জেরে শনিবার রাতে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় নতুন করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। পাল্টা জবাব হিসেবে কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আত্মঘাতী ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে এখন সর্বাত্মক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে দুই দেশের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতিটি এই ঘটনার পর কার্যত পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, জর্ডানে হামলার জন্য দায়ী ইরানের 'ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস' (আইআরজিসি)-এর সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত 'কেশম দ্বীপে' থাকা ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েতের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এছাড়া আইআরজিসি সতর্ক করেছে, তাদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হরমুজ প্রণালি পার হতে যাওয়া দুটি জাহাজ 'দুর্ঘটনার' শিকার হয়েছে।
সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর কড়া অবরোধ আরোপ করেছে। বিপরীতে তেহরান বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট 'হরমুজ প্রণালি' বন্ধ ঘোষণা করেছে। এদিকে বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা বেশ কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য হুমকির কারণে আকাবা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর খালি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের ওই এলাকায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
টানা অষ্টম রাতের মতো এই হামলা চালানোর পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, "সেনাদের এই আত্মত্যাগ যুক্তরাষ্ট্রের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।"
Comments