ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’, ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাতভর রক্তক্ষয়ী ও নজিরবিহীন বিমান এবং ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চলমান যুদ্ধবিরতির এখন 'চূড়ান্ত অবসান' ঘটেছে। তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। এ সময় তাঁর পাশে ন্যাটোর নতুন মহাসচিব মার্ক রুটেও উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমি তাদের (ইরান) সঙ্গে আর কোনো ধরনের লেনদেন বা সমঝোতায় যেতে চাই না। তারা অত্যন্ত জঘন্য এবং একদল 'অসুস্থ মানুষ' তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা মূলত নৃশংস ও সহিংস প্রকৃতির লোক।" তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, 'তাদের কাছে যদি আজ পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তবে তারা নির্দ্বিধায় সেটি ব্যবহার করত। তাই আমার বিবেচনায়, তাদের সঙ্গে সব সম্পর্ক ও সমঝোতা এখন শেষ হয়ে গেছে।'
ন্যাটো সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেন। তিনি তেহরানকে 'মিথ্যাবাদী' আখ্যা দিয়ে বলেন, 'ওদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসা মানে শুধুই সময়ের অপচয় করা। তবে আমাদের আলোচকেরা চাইলে কথাবার্তা চালিয়ে যেতে পারেন, কিন্তু আমার মনে হয় তারা কেবল নিজেদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছেন।'
আজ বুধবার সকালের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে একযোগে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের খবর আসে।
গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তাদের যুদ্ধবিমান ও নিখুঁত যুদ্ধাস্ত্রের সাহায্যে তারা ইরানের অভ্যন্তরে ও উপকূলে ৮০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। মার্কিন দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ৬০টিরও বেশি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে।
মার্কিন এই বিধ্বংসী বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে তেহরান। ইরানের আইআরজিসি জানায়, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর (ফিফথ ফ্লিট) এবং কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিসহ আমেরিকার মোট ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্পটে একযোগে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে সেগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সম্প্রতি প্রয়াত হওয়া তাদের সর্বোচ্চ নেতার রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য ও শোকমিছিলের গুরুত্ব বিশ্ববাসীর সামনে থেকে আড়াল করতেই ওয়াশিংটন এই আকস্মিক ও উসকানিমূলক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন এই পদক্ষেপকে তারা আমেরিকার পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি এবং 'ইসলামাবাদ চুক্তি'র স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
দুই দেশের এই প্রকাশ্য ও মুখোমুখি সামরিক সংঘাতের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক নতুন এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধপরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
Comments