বিদেশযাত্রার অনুমতি পেলেন বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যানের স্ত্রী ও ছেলে
শর্তসাপেক্ষে তিন মাসের জন্য বিদেশযাত্রার অনুমতি পেয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা বেগম ও ছেলে সাফওয়ান সোবহান। আজ সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির তাদের এই আবেদন মঞ্জুর করেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম আজ বিকেলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, গতকাল রবিবার (৫ জুলাই) আফরোজা ও সাফওয়ানের পক্ষে বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী এনামুল হক সর্দার। আজ আদালতে তাদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মামুন চৌধুরী।
অন্যদিকে, আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম, দেলোয়ার জাহান রুমি ও তরিকুল ইসলাম। দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি বলেন, "শুনানিতে আমরা এই বিদেশযাত্রার ঘোর বিরোধিতা করে সব তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করেছিলাম।" তবে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে নথি পর্যালোচনা করে আদালত তিন মাসের জন্য তাদের আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে এই আসামিদের বিদেশযাত্রার আবেদন একাধিকবার নাকচ হয়েছিল:
- ১৩ অক্টোবর ২০২৫: বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ পরিবারের ৫ সদস্যের বিদেশযাত্রার আবেদন তৎকালীন বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ নামঞ্জুর করেছিলেন।
- ১৯ মে ২০২৬: সাফওয়ান ও আফরোজা বেগমের বিরুদ্ধে দুদকের দাখিল করা প্রতিবেদনে মানি লন্ডারিংয়ের (অর্থ পাচার) সুস্পষ্ট তথ্য থাকায় আদালত তাদের আবেদন আবারও নামঞ্জুর করেন। তবে ওই দিন পরিবারের অন্য সদস্য সাবরিনা সোবহান এক মাসের জন্য বিদেশযাত্রার অনুমতি পান।
- ২২ জুন ২০২৬: নিম্ন আদালতের আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে আফরোজা ও সাফওয়ান হাইকোর্টে আবেদন করলে তা 'নট প্রেস' (উত্থাপিত হয়নি মর্মে) খারিজ (রিজেক্ট) হয়।
মামলার বিবরণী
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহানসহ তাঁর পরিবারের আট সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন, যা আদালত মঞ্জুর করেছিলেন।
দুদকের অনুসন্ধান টিমের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং), সরকারের শত শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি, অবৈধভাবে ভূমি জবরদখল, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। তারা দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই তখন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
Comments