ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করবে জাতিসংঘ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর অন্তর্বর্তী চুক্তির শর্ত মেনে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে যাচ্ছে জাতিসংঘের পরিদর্শক দল। বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার দল শিগগিরই এই পরিদর্শন শুরু করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এটি।
এটাকে আইএইএ-এর পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে জোরালো বক্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর থেকে ইরান আইএইএ পরিদর্শকদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে ঢুকতে বাধা দিয়ে আসছিল। ধারণা করা হয়, সেখানে ইরান এমন পরিমাণ উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করে রেখেছে যা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে অন্তত ১০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট।
তবে ইরান বরাবর দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে তারা অস্ত্র কর্মসূচি ছাড়াই ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৈরির সক্ষমতা রাখে, যেখানে অস্ত্র তৈরিতে লাগে ৯০ শতাংশ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরান পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, তারা কোনো পরিদর্শককে আসতে দেবে না।
জাপানের সুনামি-বিধ্বস্ত ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে রাফায়েল গ্রোসি সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিক বিবৃতি আমি বুঝি, সেগুলো বাস্তবতার অংশ। কিন্তু মূল বিষয়টা হলো দুই প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তিতে স্পষ্টভাবে লেখা আছে যে, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর সব কার্যক্রম আইএইএ তত্ত্বাবধান করবে। সেটা করতে গেলে আমাদের পরিদর্শন করতেই হবে। পরশু হোক বা দশ দিন পর হোক, এটা ঘটবেই।
এই পরিদর্শন চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি, কারণ এতে ইরানের উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতকে নিম্ন স্তরে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে।
Comments