হরমুজে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিককে সরিয়ে নিচ্ছে জাতিসংঘ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার মেগা অপারেশন শুরু করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থা । দুই বৈশ্বিক শক্তির মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলো।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৩ জুন, ২০২৬) আইএমও-এর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিনগুয়েজ এক বিবৃতিতে এই উদ্ধার অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
আইএমও প্রধান জানান, এই উদ্ধার কার্যক্রমটি কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। এটি সফল করতে ইরান, ওমানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় রাষ্ট্রসমূহ, যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি সমন্বিত সহযোগিতা কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওই অঞ্চলের নৌ চলাচলের বর্তমান ঝুঁকি পরিস্থিতিও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট 'হরমুজ প্রণালি' বন্ধ করে দেয় ইরান। ফলস্বরূপ, কয়েক ডজন বাণিজ্যিক জাহাজ এবং হাজার হাজার আন্তর্জাতিক নাবিক সাগরের মাঝে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
সম্প্রতি স্থায়ী শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা একটি সমঝোতা স্মারকে সই করার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান 'কেপলার'-এর তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্বাক্ষরের পর সোমবার এক দিনেই অন্তত ৩৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা সংঘাত শুরুর পর থেকে এক দিনে সর্বোচ্চ। ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটকে পড়া নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার এই পরিকল্পনাটি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে নেপথ্যে আলোচনা চলছিল, যা এখন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্থায়ীভাবে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে একাট্টা হচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলো। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে সেখানে যে বহুজাতিক নৌ নিরাপত্তা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে সর্বশেষ দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ডেনমার্ক।
Comments