১৪ দিনেই শুরু করা যাবে ব্যবসা, সহজ হচ্ছে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া: বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা কমানোর বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে একটি নতুন ব্যবসা শুরু করার অনুমোদন প্রক্রিয়া মাত্র ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আদর্শ পরিস্থিতিতে একজন ব্যবসায়ী ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারবেন।
আজ সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক বিশেষ ডিব্রিফিং সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই তথ্য জানান। 'সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়' শীর্ষক এই সেশনটি যৌথভাবে আয়োজন করে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, "আগে যেখানে একটি ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন লাইসেন্স পেতে প্রায় এক বছর সময় লেগে যেত, সেখানে এখন মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করে ব্যবসা শুরুর সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসার খরচ ও সময় দুটোই ব্যাপক আকারে কমে আসবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটে যে 'গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক' অর্থনীতির কথা বলা হয়েছে, তা শুধু অলংকার নয়; বরং এটিই বর্তমান সরকার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি।
জাতিসংঘের সিডিপি কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের জন্য যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, সে প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "এটিকে শুধু অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এই রূপান্তরকালকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ এবং উৎপাদন বহুমুখীকরণের একটি পরিকল্পিত সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা পরিবেশগত সুরক্ষা, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার ও জলবায়ু সহনশীলতার মতো বিষয়গুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতায় যারা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয় করতে পারবে, তারাই টিকে থাকবে।
ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি প্রতিপালন এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি একটি বিশেষ সেল গঠন করেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সদ্য প্রতিষ্ঠিত এই 'রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট সেল' সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
Comments