অবশেষে চুক্তিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান: তবে শর্ত নিয়ে ধোঁয়াশা
দীর্ঘ উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে সম্মত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। এই চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক তৎপরতা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আসা এই ঘোষণাটি ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে।
আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
গত রোববার নিজের ৮০তম জন্মদিন উদযাপনকালেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই চুক্তির চূড়ান্ত সফলতার কথা জানান। তিনি লেখেন, "ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।"
একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়ে বলেন: 'আমি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ টোল-মুক্তভাবে চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার অনুমোদন দিচ্ছি। বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেলের প্রবাহ চলুক।'
এর পরপরই ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানান, এই চুক্তি দুই দেশের যুদ্ধের অবিলম্বে অবসান ঘটিয়েছে এবং একটি চূড়ান্ত ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির লক্ষ্যে আগামী দুই মাসের মধ্যে তারা পুনরায় আলোচনায় বসবেন।
লেবাননে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরান প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করায় চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সব জটিলতা কাটিয়ে রোববার দিনশেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি এই সফল মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার জন্য কাতার, সৌদি আরব এবং তুরস্কের নেতাদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তগুলোর খুঁটিনাটি এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। তবে দুই দেশের মধ্যে হওয়া ১৪ দফার একটি 'সমঝোতা স্মারকের' বরাত দিয়ে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের কাছে জব্দ থাকা ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দেবে। চুক্তি সইয়ের পর আগামী ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন ইরানের আরও ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ধাপে ধাপে মুক্ত করার শর্ত রয়েছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আর্থিক লেনদেন বা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করা হয়নি, যা নিয়ে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে।
Comments