বিপুল পুলিশ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডির তল্লাশি
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের তোলপাড় সৃষ্টি করে তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতার বাসভবনে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরের দিকে সিআইডির একটি বিশাল দল তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে এই অভিযান শুরু করে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্থানীয় কালীঘাট থানার পুলিশ এবং বিপুল সংখ্যক নারী পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতার ৩০-বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন এলাকায় উপস্থিত হন।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সিআইডির তিনটি পৃথক দল এই হাইপ্রোফাইল অভিযান পরিচালনা করছে। এর মধ্যে একটি দল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে, আরেকটি দল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে এবং তৃতীয় দলটি অভিষেকের বাসভবনে তল্লাশি চালাচ্ছে।
কয়েকদিন আগে সিআইডির পক্ষ থেকে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। ওই নোটিশে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতির জন্য বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া প্রস্তাবে তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল করার বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়।
সিআইডির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই নোটিশের জবাবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী উল্লেখ করেছিলেন— বিধায়কদের ওই স্বাক্ষরগুলো দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। তার এই জবাবের ওপর ভিত্তি করেই নথিপত্র যাচাই ও তদন্তের অংশ হিসেবে আজ এই সরাসরি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের সূত্রপাত হয় মূলত বিরোধী দলনেতা হিসেবে জ্যেষ্ঠ তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে স্পিকারের কাছে পাঠানো একটি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, ওই প্রস্তাবের নথিতে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
তৃণমূলের তৎকালীন দুই বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জী এবং সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন যে, প্রস্তাবটি 'মনগড়া ও জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি' করা হয়েছে। তাদের দাবি ছিল, জমা পড়া ৭০টি স্বাক্ষরের মধ্যে অন্তত ১৪টি স্বাক্ষর সাধারণ ব্লক লেটারে লেখা ছিল, যা স্পষ্ট জালিয়াতির ইঙ্গিত দেয়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তীতে একটি এফআইআর (মামলা) দায়ের করা হয় এবং সিআইডি তদন্তভার গ্রহণ করে। অবশ্য এই অভিযোগ তোলার পরপরই দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অজুহাতে ওই দুই বিধায়ককে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। ঘটনার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
Comments