পাঁচ বছরে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৮ বিলিয়ন ডলার: বাণিজ্যমন্ত্রী
পূর্ববর্তী সরকারের ভুল নীতি এবং বৈশ্বিক নানা সংকটের কারণে দেশে গত পাঁচ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেড়েছে। এর ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৪.১৬ বিলিয়ন ডলারে।
আজ সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য জসীম উদ্দিন আহমেদের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের ভুল অর্থনৈতিক নীতির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং সামগ্রিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এই ঘাটতি তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির উচ্চ ব্যয় এবং সেই তুলনায় রপ্তানি আয়ের ধীর প্রবৃদ্ধিই বাণিজ্য ঘাটতি ক্রমাগত বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে। তবে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে। একক কোনো খাতের ওপর এই অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে সরকার রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে প্রণোদনা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক খাতে রপ্তানিকারকদের উৎসাহিত করতে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বিশেষ বন্ড সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনতে সরকারের নতুন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, দেশজুড়ে 'ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)' বা 'একটি জেলা একটি পণ্য' কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর আওতায় ইতোমধ্যে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে সম্ভাবনাময় ১৪টি পণ্যকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ২০২৬ সালের আগস্টে ঢাকায় তৃতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
Comments