জিডিপির ৩৪.৫ শতাংশ বিনিয়োগের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের চাকা সচল করে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি সাড়ে ৩৪ শতাংশে নিয়ে যেতে চায় সরকার। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার নতুন বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেখানে এই লক্ষ্যমাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হবে, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল ৩০.৮ শতাংশ।
তবে দেশের ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সুদের চড়া হার ও উচ্চ ব্যবসা পরিচালনা ব্যয়ের (ডুয়িং বিজনেস কস্ট) কারণে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য একটি বিরাট বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা মূলত সাজানো হয়েছে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর ভর করে। আগামী বাজেটে সরকারি বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণ করে জিডিপির ১৩.১০ শতাংশ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল মাত্র ৬.৫১ শতাংশ। এই বাড়তি বিনিয়োগের জন্য সরকার ইতিমধ্যেই কিছু খাত নির্দিষ্ট করেছে, যার মধ্যে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় সচল করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল এবং ১২ হাজার কোটি টাকার নগদ ঋণ তহবিল অন্যতম।
অন্যদিকে, বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা জিডিপির ২২.০৩ শতাংশ থেকে কিছুটা কমিয়ে ২১.৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, বর্তমানে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২২.০৩ শতাংশ, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বিনিয়োগ বাড়ানোর এই সরকারি লক্ষ্যমাত্রাকে ইতিবাচক দেখলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিপিডি'র নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন- সরকার আগামী অর্থবছরে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যেখানে চলতি বছর প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের কাছাকাছি হতে পারে। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে এক বছরের মধ্যে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, সুশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি করতে হবে। তবে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে হলে এই সংস্কার এখনই শুরু করা জরুরি।
একই সুর মেলো ফিল্ডের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের কণ্ঠেও। তাদের মতে, বর্তমানে দেশে সুদের হার ১৫ শতাংশের ওপরে। ব্যবসা শুরুর জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক আমেজ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তবে রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন সরকার আসায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং বিনিয়োগ কিছুটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।
বাজেট বাস্তবায়নে সরকার যে আটটি প্রধান চ্যালেঞ্জ নির্ধারণ করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো—অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কার এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি। এর বিপরীতে বাজেটে অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে 'ডিরেগুলেশন' বা ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বিনিয়োগের পথের বাধাগুলো দূর করা।
Comments