১০০ দিনে পা দিল ইরান যুদ্ধ, শান্তির সম্ভাবনা কতটা?
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ ও পরবর্তী উত্তেজনা রোববার শততম দিনে পৌঁছেছে। এদিনও ওয়াশিংটন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে হুমকি তৈরি করা দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। প্রায় তিন মাসের সহিংসতার এটি সবশেষ উসকানিমূলক বহিঃপ্রকাশ।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির তেহরান সফরের মধ্য দিয়ে নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টারও আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার তেহরানে পৌঁছে নাকভি জানান, তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ চিঠি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কাছে হস্তান্তর করবেন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর একটি বার্তাও পৌঁছে দেবেন।
সেনাপ্রধান অসিম মুনিরের বিশেষ চিঠির বিষয়ে নাকভি বলেন, 'আমি মনে করি এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা।'
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই সিএনএনকে বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বর্তমানে একটি অচলবস্থায় আছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই এই অচলবস্থা ভাঙতে হবে।' এ সময় তিনি জব্দ থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়ের দাবি জানান।
তবে এই সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে ওয়াশিংটনের কৌশল এখন ভিন্ন। ইরানের হামলায় উপসাগরীয় মিত্রদের যে ক্ষতি হয়েছে, সেটির ক্ষতিপূরণ জোগাতে জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহারের উপায় খোঁজা হচ্ছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, ইরানি সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ তাদের হাতে থাকা সব উপায় কাজে লাগাবে।
এদিকে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ইরান বরাবরই লেবানন নিয়ে জোর দিয়ে আসছে। তারা বলছে, সেখানকার সংঘাত ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শনিবার এই যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের আলোচনা করতে লেবাননের সেনাপ্রধান রডলফ হাইকাল পাকিস্তানে গেছেন। তবে হামলা অব্যাহত থাকায় ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত অবসানের স্পষ্ট লক্ষণ নেই।
Comments