মার্কিন বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে স্পিকারের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থ উদ্ধারে মার্কিন সহায়তার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে উভয় পক্ষই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন স্পিকার। এ ছাড়া বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধি, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক সুদৃঢ় করা এবং সংসদীয় ককাস ফোরামে যৌথভাবে 'গণতন্ত্র দিবস' উদযাপনের বিষয়ে তারা মতবিনিময় করেন। দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে বাংলাদেশে নতুন তেল ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে মার্কিন সহযোগিতা নিয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক আলোচনা করেন।
বৈঠকে স্পিকার বাংলাদেশে বিদ্যমান রোহিঙ্গা সংকটের সার্বিক পরিস্থিতি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সামনে তুলে ধরেন এবং এই দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও জোরালো ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রস্তাব দেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, "১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যকার সম্পর্কের ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রা সূচিত হয়। সে সময় মার্কিন কূটনীতিক আর্চার কেন্ট ব্লাড বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে অনন্য অবদান রেখেছিলেন。 বর্তমানে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক একটি নতুন মাইলফলক অতিক্রম করছে।"
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, "বাংলাদেশ কেবল পূর্ণ গণতন্ত্রের মাধ্যমেই প্রকৃত সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। বাংলাদেশের জনগণ চিরকাল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে এবং সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।"
সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে নির্বাচিত হওয়ায় হাফিজ উদ্দিন আহমদকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশীদারিত্ব বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
Comments