চট্টগ্রাম বন্দরের আরও ২ টার্মিনাল নিতে প্রতিযোগিতা
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে আলোচনার পর এবার জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ও চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ নিতে দেশি-বিদেশি ৪টি বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। মূলত নতুন প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের চেয়ে তাৎক্ষণিক আয় নিশ্চিত করতে সবাই সচল টার্মিনালগুলোর দিকে ঝুঁকছে।
প্রতিযোগিতায় থাকা ৪টি পক্ষ হলো— সংযুক্ত আরব আমিরাতের 'ডিপি ওয়ার্ল্ড', সৌদি আরবের 'রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল' (আরএসজিটি), দেশীয় শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী 'এমজিএইচ গ্রুপ' এবং জিসিবির বর্তমান বার্থ অপারেটরদের একটি শক্তিশালী জোট।
টার্মিনালভিত্তিক আগ্রহ ও প্রস্তাবসমূহ:
- ডিপি ওয়ার্ল্ড (ইউএই): দুবাই-বাংলাদেশ জয়েন্ট প্ল্যাটফর্মের আওতায় সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনাল দুটিকে একসঙ্গে একটি সমন্বিত সুবিধা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
- আরএসজিটি (সৌদি আরব): পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনাকারী এই বৈশ্বিক জায়ান্টটি এবার জিসিবি ও সিসিটি আধুনিকায়নে ৬০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছে।
- এমজিএইচ গ্রুপ (বাংলাদেশ): পিপিপি মডেলের অধীনে সিসিটি ও এনসিটি পরিচালনার জন্য নতুন প্রস্তাব দিয়েছে দেশীয় এই গ্রুপটি। প্রতি কনটেইনারে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ে বেশি (৯৮.৫০ ডলার) রাজস্ব বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা, যার মাধ্যমে ১৫ বছরে সরকারের ১.৬৮ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে।
- বার্থ অপারেটরস জোট (বাংলাদেশ): জিসিবি টার্মিনাল পরিচালনাকারী ১২টি দেশীয় অপারেটরের সংগঠন দেশি-বিদেশি কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে ৬২ কোটি ৭০ লাখ ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। দীর্ঘ দুই দশকের অভিজ্ঞতার আলোকেই তারা জেটি ও ইয়ার্ড পুনর্গঠন করতে চায়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বন্দরটি মোট ৩৪ লাখ ৯ হাজার একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। এর মধ্যে এনসিটি একাই ১৩ লাখ ২১ হাজার, জিসিবি ১০ লাখ ৮৩ হাজার, সিসিটি ৪ লাখ ৮৩ হাজার এবং পিসিটি ১ লাখ ৫৩ হাজার একক কনটেইনার হ্যান্ডল করেছে।
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, 'বে টার্মিনাল'-এর মতো গ্রিনফিল্ড প্রকল্পে বিশাল বিনিয়োগ ও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যমান টার্মিনালগুলো থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিপুল রাজস্ব পাওয়া সম্ভব বলেই দেশি-বিদেশি অপারেটরদের মনোযোগ এখন সচল জেটিগুলোর দিকে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করছে এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত অপারেটর নিয়োগ করা হবে।
Comments